মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

২০২৭ সালে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্য, ঢাকায় তিন দিনের প্রথম দফা আলোচনা শুরু

বাণিজ্যসচিব উদ্বোধন করেছেন আলোচনা; দুই দেশের ২০২৫ সালের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২৮৪ কোটি ডলার, মালয়েশিয়ায় রপ্তানিতে এখন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশ দলের প্রধান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যসচিব জানান, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্য দিয়ে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

বাণিজ্যসচিব বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন।

মালয়েশীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ কেবল শুল্ক কমানোর চুক্তি নয়; এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত উদ্যোগ। তাঁর তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন বা ২৮৪ কোটি মার্কিন ডলার। তিনি ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা শেষ করার আশা প্রকাশ করেন এবং বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরে প্রক্রিয়াটি আরও গতি পাবে।

খাদিজা নাজনীন বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে, বাণিজ্যবাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। আলোচনায় পণ্য ও সেবাবাণিজ্য, পণ্যের উৎপত্তিবিধি ও শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা করে ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানসহ প্রায় ১৪টি দেশের এফটিএ আছে। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়, অথচ প্রতিযোগী কয়েকটি দেশ শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কসুবিধায় পণ্য পাঠায়। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, চুক্তি হলে শুল্ক কমবে, তবে সুবিধা নিতে হলে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।