এডিস মশার লার্ভা জরিপের ভিত্তিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৯টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকাসহ পুরো সিটিতে রোববার ‘বিশেষ চিরুনি অভিযান ২০২৬’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের বি-টাইপ প্রাঙ্গণে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম।
করপোরেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৫টি ওয়ার্ডে ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ চালানো হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৩২২টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩৬ জন মাঠকর্মী জরিপে তথ্য সংগ্রহ করেন। বিশ্লেষণে ২৯টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টি মাঝারি ও ১৮টি সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
জরিপে বহুতল ও আধা পাকা ভবন, নির্মাণাধীন ভবন ও খালি প্লটে জমে থাকা পানিকে মশার প্রজননের প্রধান উৎস পাওয়া গেছে। প্রশাসক আবদুস সালামের তথ্য অনুযায়ী, প্লাস্টিকের বালতিতে ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ, প্লাস্টিকের ড্রামে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিকের মগে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ ও ফুলের টবে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রত্যেক নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং অন্তত সপ্তাহে একদিন জমে থাকা পানি সরানোর আহ্বান জানান তিনি। করপোরেশন জানায়, অভিযানে ওষুধ প্রয়োগ, প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-নালা পরিষ্কার ও বর্জ্য অপসারণ করা হবে; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়েও বিশেষ অভিযান চলবে। এরপরও লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।