যশোরের অভয়নগরের শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দরনগর নওয়াপাড়ার প্রাণপ্রবাহ ভৈরব নদ ক্রমেই নাব্যতা হারাচ্ছে। নদে পলি জমে বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল। কোথাও কোথাও জাহাজের তলদেশ নদীর চরে আটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ী, নৌযান মালিক ও শ্রমিকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নওয়াপাড়া নৌবন্দর এলাকায় ভৈরব নদের বিভিন্ন অংশে পানির গভীরতা কমে গেছে। নদের তলদেশে পলি জমে কোথাও কোথাও চর জেগেছে। বিশেষ করে ভাটার সময় পণ্যবাহী কার্গো ও বড় নৌযান চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জোয়ারের অপেক্ষায় নৌযানগুলোকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর খনন কার্যক্রমের অভাবে ভৈরব নদ তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারাচ্ছে। নদের দুই তীরে বিভিন্ন স্থাপনা, জেটি ও ঘাট নির্মাণের ফলে নদের স্বাভাবিক গতিপথ সংকুচিত হচ্ছে বলেও তাঁরা মনে করেন। দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
নওয়াপাড়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যকেন্দ্র। এই বন্দরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সার, কয়লা, সিমেন্ট, পাথর ও খাদ্যশস্যসহ নানা পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে জাহাজ থেকে মালামাল ওঠানো-নামানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজ কাঙ্ক্ষিত ঘাটে ভিড়তে পারছে না। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নদ খননের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। তাঁদের মতে, নিয়মিত খননের পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকি নিশ্চিত না হলে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না। নদীবন্দর-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় নাব্যতা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। নদের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল ও স্থাপনা সরানো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা।