মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

নন্দীগ্রামে আগাম আমনে বাম্পার ফলন, ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক; ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কা

বগুড়ার নন্দীগ্রামে অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কম প্রকোপে আগাম জাতের রোপা আমনের ভালো ফলন হয়েছে, তবে দাম নিয়ে উদ্বেগে চাষিরা।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় আগাম জাতের রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সোনালি আভা; কোথাও কৃষক ধান কাটছেন, কোথাও চলছে মাড়াই, আবার কোথাও কাটা ধান বাড়িতে নেওয়ার ব্যস্ততা। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কম প্রকোপে ভালো ফলনে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রোপা আমন মৌসুমে নন্দীগ্রামের পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯১৭ হেক্টরে আগাম জাতের ধান। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে বিনা-৭, বিনা-১৭, মিনিকেট, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৭৫, রঞ্জিত ও কাটারিভোগ। উপজেলার রিধইল, কৈগাড়ী, নামুইট ও বাদলাষনসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, আগাম জাতের ধান চাষের বড় সুবিধা হলো অল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায়। এতে একদিকে ধান বিক্রি করে নগদ অর্থ পাওয়া যায়, অন্যদিকে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে পরের ফসল আবাদের সুযোগ মেলে। ধান কাটা শেষে কেউ সরিষা, কেউ আলু, কেউ আবার পেঁয়াজ চাষের পরিকল্পনা করছেন।

বাদলাষন গ্রামের কৃষক জামিল হোসেন জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৪৯ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি খুশি। ধান কাটা শেষে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে সেখানে সরিষা চাষ করবেন। কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্য দাম পেলেই কৃষকদের কষ্ট সার্থক হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি রবি মৌসুমে এ উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু, ৫ হাজার হেক্টরে সরিষা, ১০ হেক্টরে ভুট্টা ও ৩০ হেক্টরে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজিউল হক বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ এবং সার-বীজের সহায়তার কারণে রোগবালাইয়ের প্রকোপ ছিল না বললেই চলে। সঠিক সময়ে জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যার ফলে ফলন ভালো হয়েছে। এখন ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা আরও লাভবান হবেন বলে তিনি মনে করেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে চলতি মৌসুমে আমনের উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগের আশা। তবে কৃষকদের প্রত্যাশিত লাভ অনেকাংশে নির্ভর করবে বীজ, সার, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য উৎপাদন খরচের ওপর।