বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদ: মাটি পরীক্ষার যন্ত্র ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা

মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য ফেরত চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী; তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষাও বর্জন করেছেন।

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মাঠে গিয়ে তাঁরা সেখানে চলমান মাটি পরীক্ষার কাজের যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। শিক্ষার্থীরা মাঠটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ বলে দাবি করছেন।

সেদিন মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের জন্য মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) চলছিল। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠের মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সেখানে অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা কার্যক্রম চালানো যাবে না। মিছিলে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁরা ‘সচিবালয় না শেকৃবি, শেকৃবি শেকৃবি’, ‘টেক ব্যাক টেক ব্যাক’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। এদিন তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষাও বর্জন করেন।

আন্দোলনের নেতৃত্বদাতাদের একজন আশিক আহমেদ বলেন, ‘এই জায়গাটি আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ছিল। কিন্তু সরকার এখানে সচিবালয় স্থানান্তরের কাজ করছে। আমরা এটি চাই না। এই মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে।’ যন্ত্রাংশ ও গাড়ি নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাঁরা এখন মাঠে কাজ করছেন, তাঁরা সেগুলো ফেরত নিতে এলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে নিতে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছেন, যার আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, সংবাদ সম্মেলন করা এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চিঠি দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সিদ্ধান্তে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁরা দ্রুত সিন্ডিকেট সভা ডাকতে উপাচার্যকে অনুরোধ করেছেন; প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনটি প্রশাসনের নয়, শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কর্মসূচি। তবে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে ও পরীক্ষায় অংশ নিতে অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি।