কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির একটি শাখার এক গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা অবৈধভাবে স্থানান্তরের অভিযোগের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা গেছে, গত দুই দিনে ওই হিসাব থেকে বিকাশ অ্যাড মানির মাধ্যমে ৭০ দফায় এ টাকা সরানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের মধ্যে তাঁর হিসাব থেকে এসব টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত রোববার অধ্যাপক মুজিবুল হক এক কর্মচারীকে ব্যাংকের ওই শাখায় টাকা তোলার জন্য পাঠান। হিসাবে টাকা নেই বলে জানানো হয়। পরে তিনি নিজে ব্যাংকে গিয়ে টাকা উধাও হওয়ার কারণ জানতে চান। তাঁর অভিযোগ, শাখা ব্যবস্থাপক তখন তাঁকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেন। এরপর তিনি ঈদগাঁও থানায় জিডি করেন।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পান সদর, রামু ও ঈদগাঁও সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান। তিনি ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদারকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। সোমবার সকালে তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অধ্যাপক মুজিবুল হক বলেন, তিনি নিজে কোনো অ্যাপ বা অনলাইন ব্যাংকিং কার্ড ব্যবহার করেন না এবং তাঁর মোবাইল ফোনে কোনো ওটিপি বা বার্তা আসেনি। তার পরও এত বিপুল অঙ্কের টাকা স্থানান্তরের ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনায় সব গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এএসপি মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভুক্তভোগীর জিডির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না; শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কারা, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় টাকা স্থানান্তর করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি; বিষয়টি তদন্তাধীন।