যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বা তা নিশ্চিত করেছে দলটি। এর ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটল।
মঙ্গলবারের এই নির্বাচনে সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। ভোটের আগে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি আসন। ফলের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন হিসাব পাওয়া যাচ্ছে: এক হিসাবে ডেমোক্র্যাটরা ৫১টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং আরও দুটিতে এগিয়ে আছে, রিপাবলিকানরা জিতেছে ৩৯টিতে এবং এগিয়ে আছে ছয়টিতে, আর একটি আসনের ফল বাকি। অন্য হিসাবে ডেমোক্র্যাটদের জয় অন্তত ৫৪টি আসনে নিশ্চিত বলা হচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রয়োজন ২১৮ আসন। ভোট গণনার একপর্যায়ে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নতুন করে ২৫টি আসন ছিনিয়ে নেয়। এক হিসাব অনুযায়ী তারা ২২৫টি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে চার বছর পর নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে দলটি। দলের নেতা হাকিম জেফরিস স্পিকার নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর বলা হচ্ছে। টেক্সাসে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো। নর্থ ক্যারোলাইনায় রয় কুপার, ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন এবং আইওয়ায় জশ টুরেক জয় পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটরা সাফল্য পেয়েছে। টেক্সাসে তিন মেয়াদের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়েছেন জিনা হিনোজোসা। ওহাইওতে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে হারিয়ে গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন অ্যামি অ্যাক্টন; ২০০৬ সালের পর এই প্রথম রাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট গভর্নর পদে জিতলেন। জর্জিয়ায় জয় পেয়েছেন কেইশা ল্যান্স বটমস, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন।
কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে নিউ জার্সির ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়েছেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক আদম হামাওয়ি, যিনি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গাজায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আলোচনায় আসেন। নিউইয়র্কের বিভিন্ন আসনেও প্রগতিশীল ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট ধারার প্রার্থীরা জিতেছেন।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় বিচারপতি ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন অনুমোদন করানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কঠিন হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও শুনানির সুযোগ বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের।