পরকীয়ার অভিযোগে রাজশাহীতে হাফিজকে মারধর, বাড়িতে অগ্নিসংযোগের পর ঢাকায় স্থানান্তর
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কিশোরপুর গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে মারধর ও তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কিশোরপুর গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাফিজুর রহমান হাফিজ নামে এক ব্যক্তিকে মারধর এবং তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গুরুতর আহত হাফিজকে প্রথমে রাজশাহীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। হাতের রগ কেটে যাওয়ায় তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, হাফিজ ও রিকসোনার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রিকসোনার ছেলে আবু বক্করের অনুপস্থিতির সুযোগে হাফিজ তাঁর বাড়িতে যান। রাত ১১টার দিকে রিকসোনার সঙ্গে হাফিজের কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড আবু বক্করের নজরে আসে। এরপর হাফিজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তবে কীভাবে তিনি আহত হয়েছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। কয়েকজনের দাবি, আবু বক্কর ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে হাফিজকে কুপিয়ে জখম করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জানালা ভাঙতে গিয়ে তিনি আহত হন।
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের দাবি, হাফিজ রাজশাহী কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নবিউল ইসলাম নবী জানিয়েছেন, হাফিজ রাজশাহী জেলায় ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তিনি জানেন। তিনি আরও শুনেছেন যে হাফিজ রাজশাহীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চাকরি করতেন এবং রিকসোনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল।
ঘটনার জের ধরে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আবু বক্করসহ একদল বিক্ষুব্ধ লোক হাফিজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেললেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে হাফিজ ও রিকসোনার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। রিকসোনার বাড়ি তালাবদ্ধ ছিল এবং হাফিজের বাড়ির দুটি কক্ষে আগুনের ধোঁয়া দেখা গেছে। পরবর্তী সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।