ঢাকা, ৩১ জুলাই: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার হৃদযন্ত্রে একাধিক ব্লকেজ ধরা পড়ায় চিকিৎসকরা ওপেন হার্ট সার্জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ১৯ জুলাই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জাতীয় মহাসমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বক্তব্য চলাকালীন তিনি দুইবার পড়ে যান, এরপর বসে থেকেই বাকী বক্তব্য সম্পন্ন করেন।
তিনি আরও জানান, “ঘটনার পরপরই তাঁকে একটি স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা জানান যে, তীব্র গরমের কারণেই তিনি অস্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের কারণে পরবর্তীতে সবগুলো চেকআপ করানো হয়।”
হৃদযন্ত্রে বিপজ্জনক ব্লকেজ
৩০ জুলাই ইউনাইটেড হাসপাতালে তাঁর এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়। এতে দেখা যায়, ডা. শফিকুর রহমানের হার্টে ৫-৬টি গুরুতর ব্লকেজ রয়েছে। তার মধ্যে তিনটি প্রধান ব্লকেজের মাত্রা ৮০-৮৫% পর্যন্ত এবং অন্যগুলো ৬০-৬৫%।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ডাক্তাররা রিং পরানোর ঝুঁকি বিবেচনা করে বলেছেন, সেটা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই তাঁরা ওপেন হার্ট সার্জারিকেই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।”
বিদেশ নয়, দেশের চিকিৎসার প্রতি আস্থা
দলের পক্ষ থেকে ডা. শফিকুর রহমানকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে কার্ডিয়াক চিকিৎসা এখন অনেক উন্নত এবং দেশীয় চিকিৎসকদের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
এছাড়া তিনি মনে করেন, একজন জাতীয় নেতা হিসেবে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি আস্থা দেখানো উচিত, যেন জনগণের আস্থাও বাড়ে।
চিকিৎসা ও সিদ্ধান্তে ঐক্যমত
পরিবার, চিকিৎসক এবং দলের পক্ষ থেকে সকলেই সর্বসম্মতভাবে দেশের চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রেখে ইউনাইটেড হাসপাতালেই সার্জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
“আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করে তাঁর সফল অস্ত্রোপচারের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।” — বলেন অধ্যাপক পরওয়ার।