নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলামকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় নিহতের ভাগনে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রিজভী আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা; তিনি আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
গত বুধবার রাতে সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। জহিরুলের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসাইনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। জহিরুল ছিলেন আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। তিনি মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় থেকে সোনারগাঁয়ের চর কিশোরগঞ্জ বাজারে একটি ফার্মেসি চালাতেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জহিরুল চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষের কয়েকজন তাঁকে সরে দাঁড়াতে চাপ দিচ্ছিলেন। বিভিন্ন সময় তাঁকে হুমকি দেওয়া ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগও আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আড়াইহাজারের পুরোনো থানা-সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ডে রিজভী ও তাঁর লোকজন জহিরুলের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় জহিরুল ২৯ নভেম্বর আড়াইহাজার থানায় মামলা করেছিলেন, যা এখন বিচারাধীন। বাদীর দাবি, এসব কারণে জহিরুল গ্রামের বাড়িতে না থেকে সোনারগাঁয়ে থেকে ব্যবসা করতেন।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টার দিকে ফার্মেসি বন্ধ করে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন জহিরুল। সাড়ে ৮টার দিকে চর হোগলা এলাকার কাশেমনগরে একটি মাদরাসার কাছে কাঁচা রাস্তায় রিজভীর নেতৃত্বে ২১ জন এজাহারভুক্ত আসামি ও আরও কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। তাঁদের হাতে চাপাতি, রামদা, ছুরি, দা, লোহার রড ও লাঠি ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
এক পথচারী জহিরুলের মোবাইল ফোন থেকে রাত পৌনে ৯টার দিকে ইসমাইলকে ফোন করে হামলার খবর দেন। পরে স্বজনেরা তাঁকে অটোরিকশায় মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথে জহিরুল হামলাকারীদের কয়েকজনের নাম বলেছিলেন। চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিলেও ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহতের এক স্বজন অভিযোগ করেন, এজাহার থেকে মোবারক হোসাইনের নাম বাদ দিতে তাঁদের নানাভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সময় হলে সব কথা বলবেন বলে জানান। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। চাপ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তে যাঁদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, এজাহারে নাম না থাকলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। মামলার আসামিরা এখনো অভিযুক্ত; আদালতে দোষ প্রমাণিত হয়নি।