বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

জিপিএ-৫ পেয়ে রাজশাহীর কলেজে ভর্তি, কিন্তু অর্থাভাবে ক্লাসে যেতে পারছে না পুঠিয়ার রুকসানা

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া পুঠিয়ার রুকসানা খাতুন বই, মেস ও যাতায়াতের খরচ জোগাড় করতে না পারায় রাজশাহী সিটি কলেজে ক্লাস শুরু করতে পারছে না; কিডনি রোগী মায়ের চিকিৎসাও বন্ধ।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামের মেয়ে মোছা. রুকসানা খাতুন এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে সে এখনো নিয়মিত ক্লাস শুরু করতে পারেনি। তার বই কেনা হয়নি, রাজশাহী শহরে থাকার মেসও ঠিক হয়নি। বাড়ি থেকে প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়।

রুকসানার বাবা মো. নূর মোহাম্মদ দিনমজুর। মা রাফিয়া বিবি আড়াই বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। ১৮ অক্টোবর তাঁকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর চিকিৎসকেরা তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। টাকার অভাবে সেখানে নেওয়া যায়নি, প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই। ফলে মাকে বাড়িতে এনে রাখতে বাধ্য হয়েছেন বাবা।

রুকসানা পাশের এলাকার ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল। কলেজে ভর্তির টাকাও জোগাড় করতে পারছিল না তার পরিবার। খবর পেয়ে এগিয়ে আসেন পুঠিয়া উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবুদাস। তাঁর সহযোগিতায় সে সিটি কলেজে ভর্তি হয়। ওই কর্মকর্তা এখন বদলি হয়ে গেছেন।

রুকসানা বলে, ‘আমার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তাঁদেরও আর্থিক অবস্থা ভালো না। কোনো সহায়তা করতে পারেন না। কিন্তু যেভাবেই হোক আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।’

ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, রুকসানার পরিবার খুবই দরিদ্র, বসবাসের মতো ভালো ঘরও নেই। স্কুলে থাকাকালীন তার কোনো বেতন নেওয়া হয়নি, এসএসসির ফরম পূরণের সময়ও তাকে সাহায্য করা হয়েছে। বিত্তবান কেউ এগিয়ে এলে মেয়েটি অনেক দূর যেতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

একদিকে মায়ের চিকিৎসা, অন্যদিকে মেয়ের লেখাপড়া—দুটোই এখন অর্থাভাবে আটকে আছে।