সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

সন্দ্বীপ ফেরিঘাটে র‍্যাম্প খুলে পানিতে, আতঙ্কে স্পিডবোট থেকে ঝাঁপ দিলেন যাত্রীরা

গুপ্তছড়া ঘাটে ফেরি ভেড়ার সময় পন্টুনের র‍্যাম্প খুলে পড়ে; কেউ হতাহত না হলেও প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরিতে আটকে ছিল ২৩টি যানবাহন।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে আজ সোমবার ফেরি ভেড়ার সময় পন্টুনের র‍্যাম্প (ওঠানামার ধাতব পথ) খুলে পানিতে পড়ে যায়। পাশেই ২৫ জন যাত্রী নিয়ে অবস্থান করা একটি স্পিডবোট স্রোতের তোড়ে কাত হয়ে উঠলে আতঙ্কে কয়েকজন যাত্রী পানিতে ঝাঁপ দেন। সাঁতরে তীরে উঠে আসায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ফেরি কপোতাক্ষ ঘাটে ভিড়তেই র‍্যাম্পটি খুলে পানিতে পড়ে। র‍্যাম্প নামতে না পারায় ৯টি মোটরসাইকেলসহ ২৩টি যানবাহন প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরিতে আটকে ছিল। যাত্রীদের সাঁতরে তীরে ওঠার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে পানি থেকে উঠে আসতে দেখা যায়।

ঘাটে থাকা যাত্রী মো. শরীফ বলেন, ঘটনাটি ভয়াবহ ছিল; র‍্যাম্প পড়ার পর স্পিডবোট কাত হয়ে যাচ্ছিল। ঘাটের শ্রমিক ফিরোজ আলম (৩২) বলেন, র‍্যাম্পটি আগে থেকেই নড়বড়ে ছিল। ফেরির মাস্টার আমীর হোসেনের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে পন্টুনের সঙ্গে র‍্যাম্পের সংযোগ ভেঙে পড়ে ছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের বারবার জানানো হয়েছিল। সময়মতো মেরামত করলে এমন ঘটনা ঘটত না।

বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার নয়ন শীল বলেন, এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম ভালো বলতে পারবেন। সেলিমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। এ নৌরুটের যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’র সমন্বয়কারী খাদেমুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর সব সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলা হয় এবং কর্তৃপক্ষ ও ফেরির মাস্টার পরস্পরকে দোষারোপ করেন। তাঁরা ঘাটে দক্ষ মাস্টার ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানান।