বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

পবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা: ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া ছেলেসহ ১৮ জনকে নিয়োগের অভিযোগ, ক্ষতি ৮১ লাখ টাকা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়া নিজের ছেলেসহ অতিরিক্ত ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুকেও আসামি করা হয়েছে। এজাহারে সরকারের প্রায় ৮১ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির কথা বলা হয়েছে।

গত রোববার দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, দুই অভিযুক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই বিজ্ঞাপিত পদের চেয়ে বেশি জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেন। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে তাঁরা বাছাই বোর্ডের সদস্যদের অবৈধভাবে প্রভাবিত করেন এবং রিজেন্ট বোর্ডের রেজুলেশন তৈরি করেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২২ সালের তিনটি পৃথক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পদের সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত ১৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেকশন অফিসার পদে তিনজনের বিপরীতে নেওয়া হয় ছয়জনকে; তাঁদের মধ্যে স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে শাওন চন্দ্র তনুও রয়েছেন। এ ছাড়া বুক বাইন্ডার, কিচেন হেলপার, অ্যাটেনডেন্ট, হেলপার, মালি, অফিস সহায়ক ও ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে চাহিদার চেয়ে ১০ জন এবং প্রভাষক পদে দুজন বেশি নিয়োগ পান। নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া এই ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যাকে এজাহারে সরকারের সমপরিমাণ ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটি হয়েছে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। সন্তোষ কুমার বসুকে পরে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

মামলার বাদী ও দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস বলেন, অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক উপাচার্য ও সাবেক রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। মামলা সম্পর্কে বক্তব্য জানতে সন্তোষ কুমার বসুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।