বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

আইএমএফের ঋণ গ্রহণে সরকারের অনিচ্ছা, শর্তাবলীর কারণে চিন্তিত মন্ত্রিসভা

সরকার আইএমএফের ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতেই চায় না চিন্তার শর্তাবলীর কারণে।

সরকার এখন আইএমএফ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ গ্রহণে দ্বিধায় রয়েছে। ঋণ গ্রহণের শর্তাবলী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী এএইচএম মুস্তফা কামাল। মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে তিনি জানান, 'এই মুহূর্তে আমরা এটা নেব না।' অর্থমন্ত্রী মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মিডিয়ার সঙ্গে তার অবস্থান প্রকাশ করেন। আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল নয় দিনের সফরে বাংলাদেশে রয়েছে। তারা বিভিন্ন সরকারি বিভাগের সঙ্গে আলোচনায় নিযুক্ত রয়েছে। আলোচনায় প্রধান উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকি প্রত্যাহার। তবে সরকার সার সাবসিডি বন্ধ করতে চায় না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমান অর্থবছরের বাজেটে ৮২,৭৪৫ কোটি টাকা ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ২৩.৮ শতাংশ বেশি। আইএমএফ সার্বিকভাবে ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার সুপারিশ করেছে। সরকারের আর্থিক ভারসাম্য স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে এই শর্তাবলী সরকারের জন্য চিন্তার বিষয়। বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের উপর চাপ বেড়েছে। জুন মাসে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭.৫৬ শতাংশ এবং খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৮.৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে। সাবসিডি প্রত্যাহারের ফলস্বরূপ মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং সরকার আশা করছে যে সাম্প্রতিক কঠোরতা কিছুটা সাহায্য করবে। আইএমএফ মুদ্রার রিজার্ভের হিসাব পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সুপারিশ করেছে। সরকারের বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও ভবিষ্যতে নতুন ঋণ গ্রহণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। মন্ত্রিসভা এবং অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য মতে, দেশীজনের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।