সুন্দরবনের বনদস্যু দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকী যৌথভাবে অভিযান চালায়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা অতর্কিতে সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। গোলাগুলির একপর্যায়ে দস্যুরা জিম্মিদের ফেলে সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ড জানায়, দস্যুদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার আলাউল ইসলাম (৩২), নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)। তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। জব্দ করা অস্ত্র ও কার্তুজের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযান সম্পর্কে ব্রিফিং করেন বিসিজিএস সোনার বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ কবীর শামিত।