বিশ্বজুড়ে কিডনির পাথর একটি অত্যন্ত সাধারণ ও যন্ত্রণাদায়ক রোগ। এ পর্যন্ত চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার, শকওয়েভ থেরাপি কিংবা ওষুধ ব্যবহার করা হলেও এসবের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, জটিলতা ও দীর্ঘ পুনরুদ্ধার সময় রোগীদের ভোগান্তি বাড়ায়। তবে নতুন গবেষণা বলছে, শল্যচিকিৎসা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে পাথর গলানোর সুযোগ আসতে পারে।
গবেষকরা প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান কিছু অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে জেনেটিকভাবে পরিবর্তন করে এমন এনজাইম তৈরি করেছেন, যা ক্যালসিয়াম অক্সালেটসহ বিভিন্ন খনিজকে গলিয়ে দিতে সক্ষম। এগুলো দেহে প্রবেশ করলে নিরাপদভাবে কাজ করে বিদ্যমান পাথর ভেঙে ফেলে এবং নতুন পাথর গঠনের প্রক্রিয়াও ঠেকিয়ে রাখে।
প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়া দক্ষ ও নিরাপদ—অর্থাৎ দেহে কোনো ক্ষতি না করেই পাথর গলাতে সক্ষম। প্রচলিত ওষুধের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, বরং দেহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে রোগ প্রতিরোধ করে।
একজন গবেষক বলেন, “এটি মাইক্রোবায়োম-ভিত্তিক চিকিৎসার এক নতুন দিগন্ত। আগে পাথর তৈরি হওয়ার পর আমরা সেগুলো সরানোর চেষ্টা করতাম, এখন আমরা সরাসরি মূল কারণেই আঘাত করছি।”
এই চিকিৎসার সম্ভাব্য সুফলগুলো হলো—
অস্ত্রোপচার ছাড়াই সমাধান
পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে কার্যকর
দ্রুত আরোগ্য লাভ
খরচ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য
এখনও গবেষণা প্রাথমিক ধাপে আছে। মানুষের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হতে যাচ্ছে শিগগিরই। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অনুমোদন পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে যদি সাফল্য আসে, তবে এটি কিডনির পাথর চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
বিশ্বের প্রায় প্রতি ১১ জনে ১ জন কিডনির পাথরে আক্রান্ত হন। সেক্ষেত্রে এই আবিষ্কার কোটি মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে। শুধু কিডনির পাথর নয়, মাইক্রোবায়োম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও নানা রোগের চিকিৎসার দ্বার খুলে যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।