উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রবাদপুরুষ সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্মভিটা সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এখানে স্মৃতি জাদুঘর বা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ার দাবি দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়িত হয়নি।
আলাউদ্দিন খাঁ ১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর শিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাইহার ঘরানার প্রতিষ্ঠাতা এই সাধকের শিষ্যদের মধ্যে ছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও ওস্তাদ আলী আকবর খান। ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের মাইহারে তাঁর মৃত্যু হয় এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।
সম্প্রতি তাঁর ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী নীরবে পার হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে বড় কোনো আয়োজন হয়নি; শুধু সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয়েছে।
আশির দশকে শিবপুরে আলাউদ্দিন পল্লি গড়ার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের নামে ২২ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হলেও সেই প্রকল্প এগোয়নি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের স্মৃতিকেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা পরিদর্শনের নথিতেই আটকে আছে। ১৮৯৮ সালের ৭ মার্চ তাঁর নিজ হাতে নির্মিত খাঁ পাড়া জামে মসজিদ সংস্কারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। পৈতৃক ভিটা ও সম্পদও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেদখল হওয়ার ঝুঁকিতে আছে বলে স্থানীয়রা জানান। শিবপুরে তাঁর বাবা-মা ও বড় ভাই আফতাব উদ্দিন খাঁর কবর রয়েছে।
২০১৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন ও জাদুঘরটি পুড়ে যায়, যা তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে বড় আঘাত ছিল। এলাকার স্কুলপড়ুয়াদের অনেকেই তাঁর সঠিক ইতিহাস জানে না বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
সরকারিভাবে জন্মদিন পালন না হওয়া প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ একাডেমির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে; তারা জানিয়েছে, তাঁর নির্দিষ্ট জন্মতারিখের সর্বসম্মত নথি নেই। নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রতিনিধি দল এসে স্থান দেখে গেছে এবং প্রশাসন সহায়তা করেছে; এরপর আর কোনো হালনাগাদ তথ্য তাঁদের জানা নেই। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এলেই তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আরজু বলেন, আলাউদ্দিন খাঁকে অবহেলা করা মানে সাংস্কৃতিক শিকড়কে অস্বীকার করা; স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে তাঁকে যথাযথ সম্মান জানানোর সময় এসেছে।