জাতীয় মুক্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হক হাকিম এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বদরুদ্দীন উমর। গত ২২ জুলাই শ্বাসকষ্ট ও নিম্ন রক্তচাপের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ১০ দিন চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও রবিবার সকালে ফের সংকটাপন্ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আবুল হাশিম ছিলেন উপমহাদেশের এক প্রভাবশালী মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক। পারিবারিক সেই রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আবহে বেড়ে ওঠেন উমর।
বদরুদ্দীন উমরের লেখনী বিশেষভাবে পরিচিত বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, ধর্ম ও রাজনীতি বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণের জন্য। তার লেখা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চিন্তাভাবনা ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—
সম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬)
সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭)
সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৯)
এই বইগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বদরুদ্দীন উমর শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি সক্রিয় ছিলেন রাজনীতিতেও। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। একসময় তিনি পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন।
২০০৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, যার সভাপতির দায়িত্ব তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পালন করেন।
তার মৃত্যুর খবরে দেশের বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আগামীকাল তার মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হতে পারে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।