চাঁদপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা শাখার সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদসহ ৩০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা ও সদর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীরামদী এলাকায় নাসির উদ্দিন আহমেদের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ও সদর উপজেলার নানা স্থানে অভিযান চালিয়ে অন্যদের আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান কাউসার, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান মুন্না, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন রনি, বাগাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন এবং যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন। কাউসারকে গুণরাজদী এলাকা, মুন্নাকে তাঁর বাসভবন এবং রনিকে ট্রাক রোড এলাকা থেকে আটক করা হয়।
এর আগে বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগাদী ইউনিয়নের বাঘড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আক্তার হোসেনকে আটকের চেষ্টা করে। পুলিশ জানায়, সে সময় স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
শুক্রবারই চাঁদপুরে ‘৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শহরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জেলা যুবদল, ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস/এনসিপি) আলাদা আলাদা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করে।
চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে রাতভর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। শনিবার আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত যাচাই-বাছাই শেষে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হবে।