কৃষক কার্ডের আওতায় নিবন্ধিত কৃষকদের মুঠোফোনে স্বয়ংক্রিয় খুদে বার্তায় (এসএমএস) আবহাওয়ার আগাম তথ্য পাঠাবে সরকার। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর এই বার্তা যাবে; দুর্যোগ বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় প্রয়োজনমতো আরও বেশিবার সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। সোমবার (২ নভেম্বর) পদ্মা টাইমস এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের বরাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ তথ্য জানিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) এই বার্তা পাঠানোর কাজটি বাস্তবায়ন করবে। বার্তায় বৃষ্টি, খরা, তাপমাত্রার ওঠানামা ও ঝড়ের আগাম খবর থাকবে। কবে থেকে বার্তা পাঠানো শুরু হবে, সে তারিখ প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ নেই।
কী কাজে লাগবে
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বাসসকে বলেন, মুঠোফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার খবর পৌঁছালে কৃষকেরা পূর্বাভাস মিলিয়ে চাষাবাদের পরিকল্পনা করতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারবেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফসল রোপণ, সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং ফসল তোলার সিদ্ধান্তে এ তথ্য কাজে দেবে। যেমন কাটার মৌসুমে বৃষ্টির আগাম খবর পেলে কৃষক সময়মতো ফসল তুলে নিরাপদে রাখতে পারবেন, আর বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখে সেচ দিলে পানি ও খরচ দুটোই কমবে।
কত কৃষক আওতায়
আবহাওয়া বার্তা কৃষক কার্ডের ১০ ধরনের সেবার একটি; বাকিগুলোর মধ্যে আছে কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচসুবিধা ও শস্যবিমা। আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কাজ চলছে। সরকারি হিসাবে, ৬৪ জেলার ৫০৩ উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে এ পর্যন্ত ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কার্ডের সঙ্গে যুক্ত ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
গত ১ অক্টোবর ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কাজ শুরু হয়। এই ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। তার আগে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষক কার্ড পান। তখন ২০ হাজার ৪৮০ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে বছরে আড়াই হাজার টাকা হারে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়।
গত ২০ অক্টোবর রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা মুঠোফোনে জানতে পারবেন পরদিন তাঁদের এলাকায় বৃষ্টি হবে কি না; ওই সভায় তিনি ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কার্ড পৌঁছানোর কথা বলেন বলে ইত্তেফাক জানিয়েছিল। কৃষিসচিব বাসসকে জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লক এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।