তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তরুণী দিশাকে চার দিনের রিমান্ডে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে দিশাকে আদালতে হাজির করে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন রিমান্ডের আবেদন করেন। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। আবেদনে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে তাহসিফের সঙ্গে দিশার একাধিকবার চলাফেরার তথ্য পাওয়া গেছে। তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে ঘটনার আগে তাঁর সঙ্গে দিশার একাধিকবার কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি রেস্তোরাঁ ও বারের সিসিটিভি ফুটেজে গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ, তাঁর বন্ধু দীপ ও দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে। রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ ও দিশা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে আসেন দীপ। পরে তিনজনকে একসঙ্গে লিফটে উঠতে দেখা যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাঁদের রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে চলে যেতে দেখা যায়। এরপর তিনজন কোথায় গিয়েছিলেন, তদন্তকারীরা তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মামলার আরেক আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে দিশার একসঙ্গে অবস্থানের তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফের মৃত্যুতে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনাস্থল শনাক্ত, আলামত উদ্ধার এবং অন্য জড়িতদের পরিচয় জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখার কথাও আবেদনে বলা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে নাম প্রকাশের পর থেকে দিশা আত্মগোপনে ছিলেন। তাহসিফের লাশ উদ্ধারের আগে তাঁর বাসার ঠিক বিপরীত পাশের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন দিশা। শনিবার রাতে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার একটি বাসা থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অভিযুক্তরা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি।