রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

হাতিয়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: কৃষি কর্মকর্তার বাবার প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ, তদন্তের কথা জানাল কৃষি বিভাগ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ; এক বাসিন্দা ধারণক্ষমতার চেয়ে ছোট গুদামের প্রতিষ্ঠানকেও ডিলার করার অভিযোগ তুলেছেন।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নতুন সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তমরদ্দি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠানের নামে সার ডিলারশিপের সুপারিশ করিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি হাতিয়া পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ দাউদের বাবা মো. আব্দুল বাতেনের মালিকানাধীন মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজকে ডিলারশিপ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুল বাতেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাঁর ছেলে বলে স্বীকার করেছেন। মোহাম্মদ দাউদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি; পরে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শনিবার নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বলেন, বিষয়টি আগে তাঁর জানা ছিল না। জানার পর তিনি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন; তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

আলাদা অভিযোগে চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মনির উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ওই ইউনিয়নে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার গুদাম না থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের আকতার হোসেনের ওয়াসিম ট্রেডার্সকে ডিলারশিপ দেওয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারের গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন হওয়া প্রয়োজন, অথচ ওই গুদামের দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট, অর্থাৎ মেঝের আয়তন ৩২২ বর্গফুট; এতে আট থেকে ১০ মেট্রিক টনের বেশি সার রাখা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যয়নপত্রেও বিষয়টি উল্লেখ আছে। মনির উদ্দিনের অভিযোগ, সার পাচারকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে কর্মকর্তারা পছন্দের ব্যক্তিদের নামে সুপারিশ করেছেন। এই অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।