সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

পিজি হাসপাতালের আটতলা থেকে পড়ে মায়ের সঙ্গে থাকা স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

গাজীপুরের সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রী শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে মারা যায়।

মায়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে ভবনের আটতলা থেকে নিচে পড়ে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (পিজি হাসপাতাল) আটতলা থেকে পড়ে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী গুরুতর আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

কিশোরী গাজীপুরের কামারজুরী ইউসুফ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের বোর্ডবাজারের সাইনবোর্ডসংলগ্ন কলমেশ্বর এলাকায় থাকত সে। তার বাবা স্থানীয় বাজারে একটি কনফেকশনারির দোকান চালান।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর মা (৪৫) জরায়ুর টিউমারের চিকিৎসার জন্য পাঁচ-ছয় দিন আগে পিজি হাসপাতালের আটতলার একটি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। আগামী ২৮ তারিখ তাঁর অস্ত্রোপচারের কথা ছিল।

কিশোরীর বাবা সাংবাদিকদের জানান, বাইরে থেকে ফিরে মেয়ে মাকে বলে ক্ষুধা লেগেছে, ভাত দিতে। ভাত খাওয়ার পর সে বিছানা থেকে কিছুটা দূরে কোমরসমান উঁচু জানালার মতো একটি জায়গায় গিয়ে বসে। তখন মা বিছানার নিচে বসে ভাত খাচ্ছিলেন। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই জায়গায় বসে নিচের দিকে তাকানোর সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে অসাবধানতাবশত সে নিচে পড়ে যায়। এতে তার ঘাড় ও একটি হাত ভেঙে যায় এবং কান দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেকের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে নেওয়া হয়, সেখানেই সে মারা যায়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।