মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। প্রতিবেদনের দাবি, স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র একটি অভিযানের প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে।
মার্কিন কর্মকর্তা ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, দুই দেশের বাহিনী মহড়া বাড়িয়েছে এবং ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে উড়ে হামলার কৌশল অনুশীলন করছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত এবং জ্বালানি অবকাঠামো।
তবে ট্রাম্প এ হামলার অনুমোদন দেবেন কি না, তা মোটেই নিশ্চিত নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছর বড় পরিসরের যুদ্ধে ফেরার প্রস্তাব তিনি একাধিকবার নাকচ করেছেন; এ মাসের শুরুতেও দুই বাহিনী প্রস্তুত থাকা অবস্থায় শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিল করেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে অভিযান শুরুর সম্ভাবনা কম। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা “থাকতেও পারে, না-ও থাকতে পারে” এমন সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হলেও প্রণালিতে নৌচলাচলসহ নানা বিরোধে তা থমকে আছে।
‘খুব শিগগির’ কিছু ঘটবে: ট্রাম্প
আনাদোলু এজেন্সির বরাতে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন এখন ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে না। বুধবার সাউথ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশ থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এক দিকে বা অন্য দিকে “খুব শিগগির” কিছু একটা ঘটবে; বেশির ভাগ মানুষের ধারণা, তা হবে নির্বাচনের পরে।
সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এখনই যুদ্ধ থেকে সরে আসতে পারে, তবে তারা চায় ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী হোক। ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘সবুজ সংকেত’ চাইবেন না নেতানিয়াহু
সৌদি মালিকানাধীন আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, নিজেদের পরিকল্পনার কথা তিনি ট্রাম্পকে জানাবেন, কিন্তু ইরানে হামলার জন্য তাঁর কাছে “সবুজ সংকেত” চাইবেন না। দক্ষিণের শহর ডিমোনায় নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার পতনই একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান, এবং সেনাবাহিনী ও মোসাদসহ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এ নির্দেশ দিয়েছেন। কখন বা কীভাবে তা কার্যকর হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে আরব নিউজ আরও জানায়, ১০ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল ইসরায়েল, কিন্তু মার্কিন নির্বাচনের আগে নতুন করে লড়াই শুরুতে আপত্তি জানান ট্রাম্প। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু দেশের নিরাপত্তাকে “নির্বাচনী সার্কাসে” পরিণত করছেন।
নেতা বদলালেও নীতি বদলাবে না?
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন। সাম্প্রতিক জরিপে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সঙ্গে নেতানিয়াহুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র মিলছে। তবে আরব নিউজে প্রকাশিত রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে আঞ্চলিক নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বদলালেও ইরানকে প্রধান প্রতিপক্ষ ধরা এবং সামরিক শক্তিকে মূল হাতিয়ার করার কৌশল বদলাবে না; পার্থক্য হবে কেবল মাত্রায়।
কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের বিশ্লেষক মাইকেল ইয়াং অবশ্য এ সংঘাতকে “চোরাবালি” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ইরানিরা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে।
এদিকে টিআরটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন হামলা হলে লড়াই দ্রুত বা সীমিত থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। আঞ্চলিক ডেটা সেন্টার, সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেব্ল ও সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছে তেহরান।