এবারের এল নিনোর বাড়তি তাপ পৃথিবীর কোন অঞ্চলে কত মানুষের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করছে, তার একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট গবেষণা দল ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত ‘এল নিনো হিট মর্টালিটি ট্র্যাকার’-এ রাজ্য ও প্রদেশ পর্যায় পর্যন্ত তাপজনিত বাড়তি মৃত্যুর প্রাক্কলন দেখা যায়, সঙ্গে আছে ছয় মাস আগাম মাসভিত্তিক হিসাব।
ল্যাবের বর্তমান হিসাবে, জুন ২০২৬ থেকে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত এল নিনোর তাপে বিশ্বে প্রায় ৮ লাখ ৫৭ হাজার বাড়তি মৃত্যু হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৭৩ হাজার মৃত্যুর প্রাক্কলন আগামী ছয় মাসের, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চের। ল্যাবের প্রকাশিত তথ্যভান্ডার বলছে, পুরো সময়ে বাংলাদেশে এই সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার ৪০০ এবং রাজশাহী বিভাগে প্রায় ২ হাজার ৬০০।
তবে সংখ্যাগুলো হাসপাতাল বা মৃত্যুসনদ থেকে গুনে পাওয়া নয়। তাপমাত্রা ও মৃত্যুহারের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি মডেলের হিসাব এগুলো।
কোন দেশে কত
অক্টোবর থেকে মার্চের হিসাবে সবচেয়ে বেশি বাড়তি মৃত্যুর প্রাক্কলন নাইজেরিয়ায়, প্রায় ৫৬ হাজার। এর পরই ভারত, প্রায় ৫৫ হাজার, যার বেশির ভাগ মার্চে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ২৯ হাজার, ব্রাজিলে প্রায় ১৯ হাজার এবং সুদানে প্রায় ১৪ হাজার ৭০০ মৃত্যুর প্রাক্কলন করা হয়েছে। ল্যাব বলছে, এই মৃত্যুর বিপুল অংশই ঘটবে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে। শুধু নাইজেরিয়া, ভারত ও ব্রাজিলেই আগামী ছয় মাসের মোট প্রাক্কলনের এক-তৃতীয়াংশের বেশি।
পুরো সময় ধরলে চিত্র কিছুটা আলাদা। জুন থেকে মার্চের মোট হিসাবে শীর্ষে ভারত, প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার। দ্বিতীয় চীন, প্রায় ৮৫ হাজার ২০০; তবে চীনের প্রায় পুরোটাই ইতিমধ্যে পেরিয়ে যাওয়া মাসগুলোর হিসাব। এরপর নাইজেরিয়া, সুদান ও ইন্দোনেশিয়া। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।
বাংলাদেশে কত, রাজশাহীতে কত
ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে বাড়তি মৃত্যুর হিসাব প্রায় ১১ হাজার ৭০০। অক্টোবর থেকে মার্চের প্রাক্কলন প্রায় ৬ হাজার ৭০০, সম্ভাব্য পরিসর ১ হাজার ৬০০ কম বা বেশি। আগামী ছয় মাসের এই হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম।
এই ছয় মাসের মধ্যে একটি মাসই আলাদা হয়ে উঠেছে: মার্চ। শীতের মাসগুলোতে দেশে বাড়তি মৃত্যুর হিসাব কয়েক শর ঘরে থাকলেও মার্চে তা প্রায় ৩ হাজার ৭০০, অর্থাৎ ছয় মাসের প্রাক্কলনের অর্ধেকের বেশি। এটি প্রায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের সমান; ওই দুই মাসে হিসাব ছিল যথাক্রমে ৩ হাজার ৭০০ ও ৩ হাজার ৮০০।
পুরো সময়ের বিভাগভিত্তিক হিসাব এ রকম (গোলাকৃত সংখ্যা, তাই যোগফল জাতীয় সংখ্যার সঙ্গে হুবহু মিলবে না):
- ঢাকা: প্রায় ৫ হাজার ১০০
- চট্টগ্রাম: প্রায় ৩ হাজার
- রাজশাহী: প্রায় ২ হাজার ৬০০
- খুলনা: প্রায় ২ হাজার ৪০০
- রংপুর: প্রায় ২ হাজার ২০০
- ময়মনসিংহ: প্রায় ১ হাজার ৪০০
- সিলেট: প্রায় ১ হাজার ১০০
- বরিশাল: প্রায় ৮১০
রাজশাহী বিভাগে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের হিসাব প্রায় ১ হাজার ৬০০, যার মধ্যে আগস্টেই প্রায় ৬৪০। অক্টোবর থেকে মার্চের প্রাক্কলন প্রায় ৯৪০, আর এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, প্রায় ৬১০, মার্চে। ট্র্যাকারে হিসাব বিভাগ পর্যায় পর্যন্ত; জেলা বা উপজেলার আলাদা কোনো সংখ্যা নেই।
এক মাসেই হিসাব প্রায় দ্বিগুণ কেন
সেপ্টেম্বরে এই ল্যাবই জুন থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার বাড়তি মৃত্যুর প্রাক্কলন করেছিল। নতুন হিসাব তার প্রায় দ্বিগুণ। ল্যাব এর দুটি প্রধান কারণ বলছে। প্রথমত, হিসাবে মার্চ মাস যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য পূর্বাভাসের বদলে এখন প্রকৃত তাপমাত্রার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, আর ওই দুই মাস পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি গরম ছিল।
ল্যাবের মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, মার্চের হিসাব প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০। সেটি বাদ দিলেও জুন থেকে ফেব্রুয়ারির হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজারে, যা সেপ্টেম্বরের প্রাক্কলনের চেয়ে অনেক বেশি। অর্থাৎ শুধু সময় বাড়ানোর কারণে নয়, প্রকৃত তাপমাত্রা ও নতুন পূর্বাভাসের কারণেও হিসাব বেড়েছে।
ইউরোপের কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিষেবার তথ্যও এই গরমের সাক্ষ্য দিচ্ছে। ২০২৬ সালের আগস্ট ছিল রেকর্ডে উষ্ণতম আগস্ট, গড় তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেপ্টেম্বর ছিল রেকর্ডে দ্বিতীয় উষ্ণতম সেপ্টেম্বর, গড় ১৬ দশমিক ২৭ ডিগ্রি, যা প্রাক্-শিল্পযুগের চেয়ে ১ দশমিক ৬৩ ডিগ্রি বেশি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আরও চোখে পড়ার মতো। সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে দেশে ৬০০-র কিছু বেশি বাড়তি মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল। এখন শুধু সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবই প্রায় ৩ হাজার ৮০০। ল্যাবের প্রকাশিত নথিতে বাংলাদেশের এই বৃদ্ধির আলাদা কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
গরম দেশ ও দরিদ্র মানুষ কেন বেশি ঝুঁকিতে
ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, “আপনি যদি আগে থেকেই গরম কোনো জায়গায় থাকেন, তাহলে বাড়তি দু-এক ডিগ্রি অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।” তাঁর ব্যাখ্যা, ধনী অঞ্চলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বেশি থাকে।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন বাইরে কাজ করা শ্রমিক, বয়স্ক মানুষ এবং যাঁদের ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা বা চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত। প্রতিবেদনের লেখক এমিলি গ্রোভার-কোপেকের ভাষ্য, মানুষ সাধারণত তাপজনিত মৃত্যুকে শুধু তাপপ্রবাহের সঙ্গে মেলায়। কিন্তু পুরো মৌসুমজুড়ে ১ থেকে ২ ডিগ্রি বাড়তি তাপমাত্রার প্রভাবও শরীরে জমতে থাকে।
ল্যাবের ভাষায়, এই তাপ ‘ভবিষ্যতের একটি পোস্টকার্ড’। সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জুন থেকে ফেব্রুয়ারির পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের ধারায় প্রায় ২০ বছর পরের স্বাভাবিক অবস্থার মতো হতে পারে; চরম গরম দিনের সংখ্যা স্বাভাবিক বছরের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি হতে পারে।
এবারের এল নিনো কতটা শক্তিশালী
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবীয় অঞ্চলের উপরিভাগ স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হয়ে ওঠার একটি প্রাকৃতিক চক্র, যা সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয় এবং ৯ থেকে ১২ মাস থাকে। এর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যায়।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ২৬ অক্টোবর জানিয়েছে, এবারের এল নিনো শক্তিতে নজিরবিহীন হতে পারে; নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি হতে পারে। সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, “গত চার দশক ধরে আমরা যে পর্যবেক্ষণ চার্ট ব্যবহার করে আসছি, এটি আক্ষরিক অর্থেই তার বাইরে চলে গেছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের ৮ অক্টোবরের পর্যালোচনায় অক্টোবর–ডিসেম্বরে ১৯৫০ সালের পর সব এল নিনোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৩ শতাংশ বলা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত রায় এখনো আসেনি। কোপার্নিকাস অক্টোবরের মাঝামাঝি বলেছে, এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, তা এখনো বলা যাচ্ছে না; যদিও জাপানের আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, পরিস্থিতি রেকর্ডে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছেছে।
দেশের আবহাওয়ায় কী দেখা যাচ্ছে
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ২৩ অক্টোবর জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং মধ্য, পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। দেশের বেশির ভাগ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির সম্ভাবনা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। দক্ষিণ এশীয় জলবায়ু পূর্বাভাস ফোরামও এ সময়ে বাংলাদেশসহ অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা তার বেশি থাকার কথা বলেছে।
এর মধ্যেই অক্টোবরের শেষ দিকে দেশের কিছু এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। ২৭ অক্টোবর ফরিদপুরে তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়াবিদেরা এর পেছনে বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়-সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির কথা বলেছেন, পাশাপাশি এল নিনোর সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও বলেছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, “আমরা পূর্বাভাসে বলেছি, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ওপরে থাকবে।”
সংখ্যাগুলো কীভাবে পড়বেন
- ‘বাড়তি মৃত্যু’ মানে: ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর পরিবর্তন। তাই কোনো মাসে কোনো এলাকায় হিসাব ঋণাত্মকও হতে পারে; যেমন অক্টোবরে সিলেট ও রংপুরে।
- পেরিয়ে যাওয়া মাসের হিসাবও মডেলের: জুন থেকে সেপ্টেম্বরের প্রায় ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ মৃত্যুর হিসাবে প্রকৃত তাপমাত্রা ব্যবহার হয়েছে, কিন্তু মৃত্যুগুলো গোনা হয়নি।
- পূর্বাভাস বদলাতে পারে: ল্যাব প্রতি মাসে হিসাব হালনাগাদ করবে। অনিশ্চয়তার পরিসরও বড়: ভারতে ১০ হাজার ৯০০ এবং নাইজেরিয়ায় ৭ হাজার ১০০ কম বা বেশি।
- পরোক্ষ মৃত্যু ধরা হয়নি: খরা, বন্যা, দাবানল বা খাদ্যসংকট থেকে যেসব মৃত্যু হতে পারে, সেগুলো এই হিসাবের বাইরে।
- পদ্ধতি: ভিত্তি ২০২২ সালে পিয়ার-রিভিউড সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা। ট্র্যাকারের পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি এখনো প্রকাশিত হয়নি; ল্যাব জানিয়েছে, তা পিয়ার-রিভিউড সাময়িকীতে প্রকাশিত হবে।
করণীয় কী
ল্যাব বলছে, জরুরি সাড়া ও প্রস্তুতি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত করতে পারলে হাজার হাজার জীবন বাঁচানো সম্ভব। প্রমাণিত ব্যবস্থার মধ্যে তারা আগাম সতর্কতা, চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানো, পানি সরবরাহ, শীতলীকরণ কেন্দ্র এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের সুরক্ষার কথা বলেছে।
ল্যাবের গবেষণা প্রধান ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বার্কলে) সহকারী অধ্যাপক তাম্মা কার্লেটন বলেন, “এই নজিরবিহীন এল নিনো থেকে মানুষকে রক্ষার চেষ্টা ইতিমধ্যে চলছে, তবে নতুন তথ্য দেখিয়ে দিচ্ছে কোথায় পদক্ষেপ সবচেয়ে জরুরি।”
পরিকল্পনা থাকলেই অবশ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। ভারতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশ সংগঠন এনআরডিসির তাপ বিশেষজ্ঞ অভিয়ন্ত তিওয়ারি বলেছেন, ভারতের কাগজে-কলমে ভালো পরিকল্পনা থাকলেও অর্থায়ন ও বাস্তবায়নই দুর্বল জায়গা। আর বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সাউলোর বার্তা, “শক্তিশালী এল নিনো মানেই মানবিক বিপর্যয় হতে হবে, এমন নয়।” তাঁর ভাষায়, এখন দরকার সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষায়।