উক্রেনের পার্লামেন্টের সাবেক স্পিকার আন্দ্রি পারুবিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কুরিয়ারকর্মীর পোশাক পরা এক বন্দুকধারী রাস্তা দিয়ে হেঁটে এসে হঠাৎ পারুবির দিকে গুলি চালায়। এরপর অস্ত্র হাতে পেছনের দিকে হেঁটে চলে যায় হামলাকারী।
লভিভের পুলিশ প্রধান ওলেকসান্ডার শ্লিয়াখোভস্কি জানিয়েছেন, পারুবিকে লক্ষ্য করে অন্তত আটটি গুলি ছোড়া হয়েছে। তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করা হয়েছিল।”
হামলার পরপরই সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর খোঁজে অভিযান শুরু করেছে ইউক্রেনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশজুড়ে “সাইরেন” নামের বিশেষ অভিযান চলছে, যেখানে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ হত্যাকাণ্ডকে “ভয়াবহ হামলা” হিসেবে বর্ণনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,
“সাবেক স্পিকার আন্দ্রি পারুবি শুধু ইউক্রেনের সংসদীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ নন, তিনি আমাদের স্বাধীনতার জন্যও সংগ্রাম করেছেন। অপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে সব ধরনের বাহিনী ও কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।”
৫৪ বছর বয়সী আন্দ্রি পারুবি ইউক্রেনের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ২০১৪ সালে সাবেক রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
এ হত্যাকাণ্ডে ইউক্রেনজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নয়, ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও নতুন হুমকি তৈরি করছে।