সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

মিরপুরে আদালতে যাওয়ার পথে পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার দুজন, চাঁদাবাজির অভিযোগ

দণ্ডপ্রাপ্ত সহযোগীকে ছাড়িয়ে আনতে যাওয়ার পথে মিরপুর ১১ নম্বরে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ ধরা পড়েছেন দুজন।

রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে তাঁদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মশিউল আজম ওরফে অরিন (৩৬) ও শান্ত ইসলাম (২৭)।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, গত শুক্রবার মাদকসহ মশিউলের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারের কার্যালয়ে বসা বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই সহযোগীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান।

সেই সহযোগীকে ছাড়িয়ে আনতেই শান্তর মোটরসাইকেলে চড়ে আদালতের দিকে যাচ্ছিলেন মশিউল। পুলিশ কর্মকর্তা নাসের রিকাবদারের ভাষ্য, মিরপুর ১১ নম্বরে তল্লাশিচৌকিতে পুলিশ মোটরসাইকেলটিকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে শান্ত দ্রুতগতিতে মশিউলকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে।

চাঁদাবাজির অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটির কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই; মশিউল তা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান। তাঁদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মশিউল তাঁর সহযোগীদের নিয়ে মিরপুর ১২ নম্বরের বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে ওই পিস্তলের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন।

মশিউলের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদক আইনে মোট ৯টি মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালেও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে; ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছিল। এবার দুজনের বিরুদ্ধেই পল্লবী থানায় অস্ত্র আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।