রাজশাহীর পুঠিয়ায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের যন্ত্র বসানোর ঘর তৈরির সরকারি অনুদান থেকে কৃষকপ্রতি এক হাজার টাকা করে কেটে রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের তিন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক এ অভিযোগ করেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পদ্মা টাইমস সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই প্রতিবেদনের তথ্য পদ্মা টাইমসের খবরের ভিত্তিতে তৈরি।
পদ্মা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বেলপুকুর ইউনিয়নের ৭০ জন কৃষককে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বায়ুপ্রবাহ যন্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রত্যেক কৃষকের ব্যাংক হিসাবে ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ২১ হাজার টাকা যন্ত্র সরবরাহের খরচ বাবদ নেওয়া হয়েছে; বাকি সাত হাজার টাকা যন্ত্র স্থাপনের ঘর বানাতে কৃষকদের পাওয়ার কথা।
কৃষকদের ভাষ্য, এখনকার বাজারদরে সাত হাজার টাকায় প্রয়োজনীয় ঘর তোলাই কঠিন; তার ওপর এক হাজার টাকা কম পাওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েন। ছয় হাজার টাকা হাতে পাওয়ার পর কয়েকজন কৃষক বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর কেটে রাখা এক হাজার টাকা করে কৃষকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযোগ উঠেছে বেলপুকুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদউল্লাহ, মো. সোহেল রানা ও হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে। তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ঘর নির্মাণের সাত হাজার টাকার পুরোটাই কৃষকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারও টাকা কেটে রাখা হয়নি।
পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেছেন, কৃষকদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো তাঁর দপ্তরে আসেনি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। টাকা কাটার অভিযোগ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল এখনো পাওয়া যায়নি।
পেঁয়াজ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ
পদ্মা টাইমসের প্রতিবেদনে কর্মসূচিটির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ চলছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস গত ২৩ জুলাই জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রকল্প চলছে, যা রাজশাহীসহ ১৬ জেলার ১০৭টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেদিন এক কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কৃষক পর্যায়ে আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়ার কথা বলেন।
দৈনিক আমার দেশ গত ১ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে প্রকল্প পরিচালকের বরাতে জানায়, এ কার্যক্রমের একটি অংশ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির এবং অন্যটি জলবায়ু তহবিলের প্রকল্পের আওতায় চলছে। একই প্রতিবেদনে একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, একটি মেশিন স্থাপনের জন্য ২১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। পত্রিকাটি মেশিনের মোটরের মান নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল; প্রকল্প পরিচালক তখন দাবি করেন, তাঁর প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি।