সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

শরণখোলায় সুন্দরবন-সংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের ধানখেতে বাঘের পায়ের ছাপ, ড্রোনে নজরদারি ও মাইকিং

এক সপ্তাহ আগেও গ্রামের পাশে নদীতীরে বাঘের ছাপ দেখা গিয়েছিল; সোমবার বন বিভাগ ড্রোন উড়িয়ে বাঘের সন্ধান পায়নি, আগামী দুই-তিন দিন টহল থাকবে।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের ধানখেতে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। গ্রাম ও বনের মধ্যে ব্যবধান কেবল একটি নদীর। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে বাঘ নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সোমবার সকালে বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন; একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। স্থানীয় ব্যক্তি ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলের দিকে গ্রামের একটি মাঠের ধানখেতে ছাপ দেখা যায়। এক সপ্তাহ আগেও গ্রামের পাশের নদীর তীরে প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে বাঘের হেঁটে চলার ছাপ দেখা গিয়েছিল।

সোমবার বন বিভাগ ড্রোন দিয়ে সোনাতলার মাঠ ও বিলের ধানখেত পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে বাঘের অস্তিত্ব বা অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তা (এসিএফ) শরিফুল ইসলাম বলেন, পুরো মাঠই দেখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার রাতে বাঘটি এসেছে এবং চলে যেতে পারে; তবে চলে গেছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ধানখেতের মধ্যে ছাপ পুরোপুরি পরিষ্কার নয় বলে বাঘের চলাচলের গতিপথও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গ্রামের কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য আবদুর লতিফ বলেন, ধানখেতে বাঘের তাজা ছাপ দেখা গেছে। রোববার রাতেই গ্রামবাসীর সঙ্গে বৈঠক করে গবাদিপশু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রাতে একা বের না হতে বলা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ধানখেতে বাঘ দূর থেকে দেখা যায় না, তাই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি।

বন বিভাগ, সিপিজি ও ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) সদস্যরা বনসংলগ্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করছেন। শরিফুল ইসলাম জানান, আগামী দুই-তিন দিন ওই এলাকায় বন বিভাগ, সিপিজি ও ভিটিআরটির টহল দল থাকবে।