সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অটোরিকশাচালক কছিম উদ্দিনকে (৪৮) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের দুই বছরের বেশি সময় পর নিহতের ছোট ভাই আবদুল মালেকসহ (৪৫) দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান জানান, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী এলাকা থেকে আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শুক্রবার একই এলাকা থেকে তাঁর সহযোগী কাকলী রানীকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাঁরা আদালতে জবানবন্দি দেন।
২০২৪ সালের ১ জুলাই নিমগাছী এলাকায় কছিম উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। তাঁর স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করেন। হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের বিষয়টি সামনে আসে। তবে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, এটি প্রকৃতপক্ষে ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না; দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার পর কোনো সূত্র মিলছিল না এবং তদন্ত স্থবির ছিল। কয়েক মাস আগে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। মরদেহের পাশে পাওয়া দুই জোড়া স্যান্ডেলের সূত্র ধরে নিহতের ছোট ভাই আবদুল মালেক সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হন। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মালেক লোক ভাড়া করেছিলেন এবং অটোরিকশা ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন গভীর রাতে ভাড়া করা আরও দুজনকে নিয়ে তিনি কছিম উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করেন। কাকলী রানী ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে কছিম উদ্দিনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসতে সহায়তা করেন বলে পুলিশের ভাষ্য। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার দুজন অভিযুক্ত; আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নির্দোষ বলে গণ্য করা হবে।