মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

৩৬তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে আট বছরেও পদোন্নতি নেই, সহকারী অধ্যাপকের ৯৪৯ শূন্য পদের বিপরীতে যোগ্য ১,৬৮৪ জন

প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা; সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মিলছে না বলে জানাচ্ছে মাউশি।

৩৬তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন আট বছরেরও বেশি সময় আগে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। এখন তাঁরা চাকরির নবম বছরে। কিন্তু শুরুর পদ, অর্থাৎ প্রভাষক পদেই রয়ে গেছেন; এ সময়ে তাঁদের কোনো পদোন্নতি হয়নি। প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবিতে ২৫ অক্টোবর তাঁরা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সামনে অবস্থান কর্মসূচিও করেছেন।

শুধু ৩৬তম বিসিএস নয়, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বছরের পর বছর একই পদে থাকার নজির আছে। এই ক্যাডারে মোট পদ প্রায় ১৬ হাজার, যার মধ্যে হাজারের বেশি শূন্য। কর্মকর্তাদের অধিকাংশ সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন; অন্যরা মাউশি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, শিক্ষা বোর্ড, নায়েমসহ শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করেন।

সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সাধারণত প্রভাষক পদে পাঁচ বছর সন্তোষজনক চাকরি, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, সন্তোষজনক বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন এবং বনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। মাউশির সূত্র বলছে, ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের অধিকাংশ প্রভাষক এসব যোগ্যতা অর্জন করেছেন। পদোন্নতি পেলে তাঁরা জাতীয় বেতন স্কেলের ষষ্ঠ গ্রেডে বেতন পাবেন। ২০২৬ সালের স্কেল অনুযায়ী এই গ্রেডে শুরুর মূল বেতন ৭১ হাজার টাকা, যা ২০১৫ সালের কাঠামোয় ছিল ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা।

মাউশির একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী অধ্যাপকের অনুমোদিত পদ ৪ হাজার ৯৮০টি। কর্মরত ৪ হাজার ৩১ জন, অর্থাৎ ৯৪৯টি পদ শূন্য। অন্যদিকে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছেন ১ হাজার ৬৮৪ জন—শূন্য পদের চেয়ে ৭৩৫ জন বেশি। শিক্ষা ক্যাডারে সাধারণত শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি হয় বলে এটিই জটিলতার অন্যতম কারণ। মাউশি সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি দেওয়ার আবেদন জানালেও এ জন্য অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি লাগে। মাউশির সূত্রের ভাষ্য, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে না; ফলে আপাতত শূন্য ৯৪৯ পদে পদোন্নতির চিন্তা চলছে। পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, যোগ্যতা অর্জনকারী সবাইকে পদোন্নতির আওতায় আনতে হবে।

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, কর ও কৃষিসহ কয়েকটি ক্যাডারে সমান সময়ে যোগ দিয়েও অন্যরা এগিয়ে গেছেন। ৩৬তম বিসিএসের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, প্রশাসনসহ অন্য কয়েকটি ক্যাডারে তাঁদের পরের এক বা একাধিক বিসিএসের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হয়েছে; উদাহরণ হিসেবে তাঁরা ৩৮তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পদে পদোন্নতির কথা বলছেন।

মাউশির সূত্র জানিয়েছে, সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা চলছে; ৩৭তম বিসিএস পর্যন্ত কর্মকর্তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই হয়েছে এবং আরও সভা হবে। সর্বশেষ সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে।