লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL), উরুগুয়ের ইউনিভার্সিটি অব দ্য রিপাবলিক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রড ইনস্টিটিউটের গবেষকরা যৌথভাবে এই গবেষণা সম্পাদন করেছেন। তাদের গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Sleep Health জার্নালে।
গবেষণায় প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষের জেনেটিক ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, যাদের জেনেটিক প্রবণতা রয়েছে দিনে ন্যাপ নেওয়ার, তাদের মস্তিষ্কের ভলিউম বা আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি। মস্তিষ্কের এই ভলিউম বৃদ্ধিকে বিজ্ঞানীরা বয়স কমার সঙ্গে তুলনা করেছেন — যা গড়ে ২.৬ থেকে ৬.৫ বছরের সমান তরুণ মস্তিষ্কের প্রতিফলন।
মস্তিষ্ক সুরক্ষায় সম্ভাব্য ভূমিকা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের আয়তন কমতে থাকে, যা বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও নানা স্নায়বিক রোগের কারণ হতে পারে। গবেষকদের মতে, ন্যাপ হয়তো এই ক্ষয় রোধে সহায়ক হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
গবেষণার পদ্ধতি
গবেষকরা Mendelian randomization নামের একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এর ফলে পরিবেশগত বা জীবনযাপনের প্রভাব বাদ দিয়ে সরাসরি জেনেটিক ভূমিকা বোঝা সম্ভব হয়েছে। যদিও এই গবেষণায় সরাসরি মানুষের ন্যাপ নেওয়ার আচরণ বা তাদের স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করা হয়নি, তাই ফলাফল ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন উপকারী হতে পারে দুপুরের ঘুম?
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, দুপুরের ন্যাপে অনেক সময় slow-wave sleep পাওয়া যায়, যা গভীর নিদ্রার একটি ধাপ। এই ঘুম মেমরি বা স্মৃতিশক্তি মজবুত করতে এবং মস্তিষ্ক থেকে টক্সিন দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষকদের মন্তব্য
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ গবেষণা খুবই আশাব্যঞ্জক হলেও এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। যেমন — ন্যাপ কতক্ষণ হওয়া উচিত, কতবার হওয়া উচিত, কিংবা সব ধরনের ন্যাপ কি সমান উপকারী? এসব বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তবে প্রাথমিকভাবে বলা যায়, দুপুরের অল্পক্ষণ ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, বরং মস্তিষ্ককেও তরুণ রাখতে সহায়তা করতে পারে।