শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬

ইরান সামরিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালি খুলতে প্রস্তুত: আব্বাস আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তাঁর দেশ সামরিক হামলার জন্য যেমন প্রস্তুত, তেমনই কূটনৈতিক আলোচনার জন্যও প্রস্তুত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি বলেছেন যে তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে নতুন করে সামরিক হামলা হলে তার জবাব দিতে তারা ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের সাত দিনের প্রস্তাবের বিস্তারিতও জানিয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আরাগচি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এমন কথা তেহরান শুনেছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের জন্য ইরান এখনো অপেক্ষা করছে। তার মতে, ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়, অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়ার মতো কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করা হলে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। এরপর ষষ্ঠ দিনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং সপ্তম দিনে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে দুই দেশের আলোচনা আবার শুরু হতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ২০২০ ও ২০২০ সালে আলোচনার সময় ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং পরে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরও তা লঙ্ঘন করেছে, যা ইরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছে। আরাগচি জানান, ইরান আগের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার সময়ের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। নতুন কোনো আগ্রাসন হলেও আমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব, এমনকি তা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পর্যায়ে গেলেও। একই সময়ে আমরা কূটনীতির জন্যও প্রস্তুত।” তবে নতুন করে সামরিক অভিযান নাকি আলোচনা এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে আরাগচি বলেন, দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের বিষয়ও রয়েছে। তিনি জানান, ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছে ইরান। তবে সাত দিনের প্রাথমিক প্রস্তাবে পারমাণবিক ইস্যুটি রাখা হয়নি। তার ভাষ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাকে পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং আপাতত আস্থা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরাগচি মার্চে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রকাশ্যে ভিডিওতে দেখা না যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্নের জবাবে নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি থাকার বিষয়ে ইরানের কাছে কিছু তথ্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা তার মন্তব্য, নির্দেশনা ও মতামত পাই।” ইরানে ক্ষমতার একাধিক কেন্দ্র তৈরি হয়েছে এমন ধারণাও নাকচ করেন তিনি। তার দাবি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকার, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ও পার্লামেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।