শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

অংশীদারি ব্যবসা ও সোসাইটির নিবন্ধন এখন ৩০ কার্যদিবসে, জমে থাকা আবেদন তিন মাসে নিষ্পত্তির নির্দেশ

নিবন্ধনে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) গত সোমবার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

অংশীদারি ব্যবসা ও সোসাইটি নিবন্ধনে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার। এখন থেকে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দিতে হবে, আর দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদন আগামী তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) গত সোমবার এ-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

আরজেএসসির নিবন্ধক (অতিরিক্ত সচিব) আহমেদ উল্লাহ জানান, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ নিশ্চিত করা, নাগরিকসেবা সহজ করা, অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং দাপ্তরিক কাজে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনার উদ্দেশ্যে নির্দেশনাটি দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনলাইনে নিবন্ধনের আবেদন পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়া সম্ভব না হলে কারণ উল্লেখ করে তা পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে জানাতে হবে। আবেদনে কোনো ত্রুটি বা ঘাটতি থাকলে তা সংশোধনের জন্য আবেদনকারীকে ৭ থেকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে এবং বিষয়টি ই-মেইলে জানানো হবে।

জমে থাকা আবেদনগুলো তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা অনিষ্পন্ন আবেদন নিষ্পত্তি করে একটি প্রতিবেদন নিবন্ধকের কাছে জমা দেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন অনুমোদন বা নামঞ্জুর করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।

পার্টনারশিপ ফার্মের নিবন্ধন এখনো ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী হয়। সোসাইটির নিবন্ধন হয় ১৮৬০ সালের সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী। আরজেএসসির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৬৪ হাজার ২২টি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে এবং বছরে গড়ে নিবন্ধন হয় প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠানের। নিবন্ধিত সোসাইটির মোট সংখ্যা ১৭ হাজার ৪২৯, বছরে গড়ে নিবন্ধন হয় ২০০টি। একক বছর হিসেবে সবচেয়ে বেশি, ৯৪১টি সোসাইটি নিবন্ধিত হয়েছে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে।