সাপের কামড়ে আহত মেয়েকে বাঁচাতে বস্তায় ভরে সাপসহ হাসপাতালে বাবার যাওয়া
শেরপুরের নকলায় সাপের কামড়ে আহত মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বাবা সঙ্গে সাপটিও নিয়ে যান, যা আলোচনায় জন্ম দিয়েছে।
শেরপুরের নকলা উপজেলার এক তরুণী রান্নাঘরে কাজ করার সময় সাপের কামড়ের শিকার হন। এরপর তার বাবা চিকিৎসকদের দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সাহায্য করার জন্য মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বস্তায় ভরে সেই সাপটিকেও সঙ্গে নিয়ে যান। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে নকলা পৌর শহরের দড়িপাড়া গ্রামে। ওই গ্রামের আকাব্বর আলীর মেয়ে রিয়া মণি (২০) রান্নাঘরে কাজ করার সময় সাপে কামড় দিলে তার আত্মচিৎকারে পরিবারের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। আকাব্বর আলী তখন রান্নাঘরের এক কোণে সাপটিকে দেখতে পেয়ে মাছ ধরার কোচ দিয়ে নিরাপদে ধরে একটি বস্তাবন্দি করেন।
বস্তায় সাপ ও মেয়ে রিয়া মণিকে নিয়ে আকাব্বর আলী দ্রুত নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। সাপটি দেখে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে, রিয়া মণিকে কামড়ানো সাপটি বিষধর ছিল না।
তবে সাপের কামড়ের আকস্মিকতায় রিয়া মণি মানসিকভাবে মারাত্মক ভেঙে পড়েন। অতিরিক্ত ভয়ের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি না ঘটিয়ে স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে রিয়া মণি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।
আকাব্বর আলী বলেন, “মেয়ের জীবন নিয়ে চরম আশঙ্কায় ছিলাম। সাপটি কোন প্রজাতির, তা চিকিৎসকরা দেখলে দ্রুত বুঝতে পারবেন—এই চিন্তা থেকেই মাছ ধরার ব্যাগে করে সাপটি সঙ্গে নিয়েছিলাম।” বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপে কাটলে ওঝা-বৈদ্যের কাছে সময় নষ্ট না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত। এই ঘটনায় সচেতনতার অংশ হিসেবে সাপটিকে সঙ্গে নেওয়ায় চিকিৎসকদের জন্য রোগ নির্ণয় করা অনেক সহজ হয়েছে।