ইসলামী ব্যাংকের ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার জালিয়াতির মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। এদিন প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল, কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তা জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ ঠিক করেন।
২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে ঢাকার তৎকালীন মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে অভিযোগ আমলে নেন এবং দুদককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।
এজাহারে সাহাবুদ্দিনের পরিচয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে ১২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি এস আলম ও আবদুল ওয়াহেদের সঙ্গে যোগসাজশে নির্বাচিত পরিচালক ছিলেন। আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম এবং ব্যাংকটির বিভিন্ন পরিচালক।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিদের পরিচালিত ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি ব্যাংকটির ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যা মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ; এসব শেয়ারের মূল্য ২৫১ কোটি টাকা। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। বাদীর অভিযোগ, এত অল্প পরিশোধিত মূলধনের প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি আসামিদের পরিকল্পিত যোগসাজশের ফল—এমন অভিযোগ আনা হয়েছে; আদালতে এখনো তা প্রমাণিত হয়নি।