বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

প্রাণঘাতী জেন-জি বিক্ষোভে সরকার ভেঙে দিলেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট

বিদ্যুৎ–পানির সংকটে উত্তাল রাজধানী আন্তানানারিভো, জাতিসংঘ বলছে নিহত ২২ জন

মাদাগাস্কারে  জেন-জি বিক্ষোভ
ছবি: মাদাগাস্কারে জেন-জি বিক্ষোভ

বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকটের কারণে মাদাগাস্কারে টানা বিক্ষোভে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা সরকার ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তরুণ নেতৃত্বাধীন এ আন্দোলনকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তার সরকার ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা–প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

রাজধানী আন্তানানারিভোতে সোমবার প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সংগীত গেয়ে শহরের কেন্দ্রের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। শহরে সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কারফিউ জারি রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের হিসাবে, বিক্ষোভে অন্তত ২২ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ছাড়াও সাধারণ পথচারী ও লুটপাটকারীরাও রয়েছেন। তবে মাদাগাস্কারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, জাতিসংঘের সংখ্যা "গুজব ও ভ্রান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে" তৈরি।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত এ বিক্ষোভে তরুণরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, তারা কেনিয়া, নেপাল ও মরক্কোর সাম্প্রতিক যুব-আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত। এমনকি নেপালের পতাকাও দেখা গেছে বিক্ষোভস্থলে, যেখানে গত মাসে বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৩ সালে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর রাজোয়েলিনার জন্য এটিই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। মাদাগাস্কার স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক গণ-অভ্যুত্থয় ও সরকার পতনের ইতিহাস বহন করছে। এবারও পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে তা নিয়ে দেশজুড়ে শঙ্কা বিরাজ করছে।