রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

ময়মনসিংহে রেলের জমি দখল করে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ

নগরের মিন্টু কলেজ এলাকায় রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জমি সীমানার ভেতরে ঢুকিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ রাখতে বলেছে।

ময়মনসিংহ নগরের মিন্টু কলেজ এলাকায় রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা ‘এলিট টাওয়ার’ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জমি ভবনটির সীমানার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) ভবনটিতে অভিযান চালিয়েছিল।

গত বুধবার রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন জমি পরিমাপ করেন। তাতে রেলের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা ভবনের সীমানার ভেতরে পাওয়া গেলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রেলওয়ের জমিতে কোনোভাবেই বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।

ভবনটির ডেভেলপার পক্ষের দাবি, সব নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনেই ১৮ তলা ভবনের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে তাঁরা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা ভবনটির নকশা অনুমোদন করানো হয়। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর সম্প্রতি নির্মাণকাজ শুরু হয়। নকশা অনুমোদন ও জমির সীমানা নির্ধারণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশে এবং ত্রিশালের কালীরবাজার (ফাতেমা নগর) এলাকায়ও রেলের জমি বেদখলের অভিযোগ রয়েছে। কালীরবাজার রেলস্টেশন এলাকায় রেলওয়ের প্রায় ১৫ দশমিক ৪৮ একর জমি আছে, যার বড় অংশ অবৈধ দখলে চলে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় সেখানে স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। স্টেশন ও আশপাশের জমি ঘিরে পশুর খামার, দোকানপাট ও বসতবাড়ি গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে। রেলওয়ে উচ্ছেদের নোটিশ দিলেও তা কার্যকর হয় না বলে স্থানীয়রা বলছেন।