রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির দুই অংশের পৃথক সমাবেশ, একে অপরকে দুষল দুই পক্ষ

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের অংশ পৌর পার্কে, জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ ও সৈয়দা আশিফা আশরাফির অংশ হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করেছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বিএনপির বিবদমান দুটি অংশ আলাদাভাবে সমাবেশ করেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা তিনটার দিকে একই সময়ে শহরের দুটি স্থানে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপির পুরোনো বিভক্তি আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া ও সদস্যসচিব রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন অংশ শহরের পৌর পার্ক মাঠে সমাবেশ করে। গোলাম জাকারিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম।

অন্য অংশের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ এবং তাঁর স্ত্রী, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া। তাঁরা একই সময়ে হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশের আয়োজন করেন। জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হারুনুর রশীদ, আর প্রধান বক্তা ছিলেন সৈয়দা আশিফা আশরাফি।

পৃথক কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২২ সালে জেলা বিএনপির দায়িত্ব তাঁদেরই দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরাই দলের প্রতিনিধি, তাই জেলা বিএনপির উদ্যোগে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির সঙ্গে হারুনুর রশীদ ও আশিফা আশরাফির কোনো সম্পর্ক নেই; কেন তাঁরা আলাদা কর্মসূচি করেছেন, সেটি তাঁদেরই জিজ্ঞেস করা উচিত।

এই অংশের বিরুদ্ধে জামায়াত-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন সৈয়দা আশিফা আশরাফি। তিনি বলেন, তাঁরা নিজেদের মতো করেই দিবসটি পালন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, যাঁরা দাঁড়িপাল্লার মঞ্চে ওঠেন, নৌকার মঞ্চে ওঠেন কিংবা স্বতন্ত্র হয়ে ভোট করেন, তাঁরা বিএনপির লোক হতে পারেন না; দলে পদ থাকলেই কেউ বিএনপি হয়ে যান না। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।