বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

বৈদেশিক ঋণ বেড়ে ১১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার, তিন বছরে বৃদ্ধি প্রায় ১৭.৭ শতাংশ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলারে; ঋণের প্রবৃদ্ধি কমলেও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন শেষে ১১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিন বছর আগে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ঋণ ছিল ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন বছরে ঋণ বেড়েছে ১৭.২৯ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৭.৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিসংখ্যান ব্যুরো, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য একত্র করলে এই চিত্র পাওয়া যায়।

ঋণের স্থিতি বাড়লেও প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ ছিল ১০৪.০৭ বিলিয়ন ডলার (প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ), ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১৩.৫৮ বিলিয়ন ডলার (প্রবৃদ্ধি ৯.১ শতাংশ)। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ১.২ শতাংশে; আগের বছরের তুলনায় ঋণ বেড়েছে ১.৪০ বিলিয়ন ডলার।

প্রবৃদ্ধি কমার অর্থ এই নয় যে ঋণের বোঝা কমেছে। এর মানে, ওই সময়ে নতুন ঋণ যোগ হয়েছে আগের বছরের চেয়ে ধীরগতিতে। তাই ঋণ মূল্যায়নে শুধু প্রবৃদ্ধির হার নয়, মোট স্থিতি, পরিশোধের সময়সূচি এবং নতুন ঋণের অর্থনৈতিক সুফলও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

ঋণের কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের আধিক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ছিল ৮১.৬৮ বিলিয়ন ডলার; ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১০০.৬৪ বিলিয়ন ডলার। তিন বছরে এ খাতে বেড়েছে ১৮.৯৬ বিলিয়ন ডলার। মোট ঋণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অংশ ৮৩.৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৭.৫০ শতাংশে উঠেছে।

একই সময়ে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৬.০১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১৪.৩৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে; মোট ঋণে এর অংশ ১৬.৪০ শতাংশ থেকে কমে ১২.৫০ শতাংশ হয়েছে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিশোধের সময় বেশি থাকায় তাৎক্ষণিক তারল্য সংকট কমে। তবে সুদের হার, মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়নের ওপর এর প্রকৃত বোঝা নির্ভর করে।