ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ টিকে থাকা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে টিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ত্রিপুরার সাবেক রাজপরিবারের বংশধর প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা এক বিতর্কিত দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে হলে চট্টগ্রাম বন্দর দখল নিতে হবে।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রদ্যোত দেববর্মা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, “ইউনূস বলেছেন উত্তর-পূর্ব ভারত ভূমিবেষ্টিত। তাকে ভুল প্রমাণ করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।”
তিনি আরও দাবি করেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল ভারতের “পুরোনো জমি” যা ফিরিয়ে আনতে হবে। “এ সীমানা কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে। যদি রাজনৈতিক সীমানা তৈরি করা সম্ভব না হয়, তবে একটি সাংস্কৃতিক সীমানা তৈরি করা উচিত,” যোগ করেন তিনি।
প্রদ্যোত দেববর্মা অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। তারা আমাদের উসকানি দিচ্ছে। চাকমারা বৌদ্ধ, জাপান ও চীন আমাদের সমর্থন দেবে। ত্রিপুরা, গারো, খাসিয়াদের মধ্যে খ্রিস্টান ও হিন্দুদের উপস্থিতি আমাদের পক্ষে সহায়ক হবে।”
তিনি অতীত ইতিহাস টেনে এনে বলেন, “১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ত্রিপুরা ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির চুক্তি করেছিল। বৃহত্তর ত্রিপুরাল্যান্ড গঠিত হবে, যখন আমরা একসঙ্গে হয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঠেকাব।”
এসময় তিনি ইউক্রেনের গণভোট, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতির নানা প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তার দাবি, “উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা আগামী ২০ বছরের দিগন্তপট কল্পনা করে কাজ করবে।”
প্রদ্যোতের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বক্তব্য শুধু উসকানিমূলক নয়, বরং আঞ্চলিক সম্পর্কের জন্যও হুমকি।