মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

সীতাকুণ্ড উপকূলে বেড়িবাঁধের কাছে ড্রেজারে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসন বলছে অনুমতি দেওয়া হয়নি

সৈয়দপুর থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ও সোনাইছড়ির বকতারপাড়ায় বালু তোলায় বেড়িবাঁধ ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোবাইল কোর্টে ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে উপকূলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাছাকাছি এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, সৈয়দপুর থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে এবং সোনাইছড়ির বকতারপাড়ায় মাবিয়া শিপইয়ার্ডসংলগ্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে বালু তোলা হচ্ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, উপকূলের সংবেদনশীল এলাকায় এভাবে বালু তোলা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ভাঙনে বিলীন হতে পারে বেড়িবাঁধ, বসতভিটা ও কৃষিজমি। তাঁরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে বেড়িবাঁধের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা এবং বালু উত্তোলনের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে কারিগরি মূল্যায়নের দাবি তুলেছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল বলেন, সীতাকুণ্ড উপকূলে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমতি রয়েছে বলে যাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের তথ্য সঠিক নয়। তিনি জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে মাবিয়া শিপইয়ার্ডের পরিচালক এজাহার মিয়া বলেন, শিপইয়ার্ডটি শ্রমিক দলের নেতা রবিউলের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ভাড়াটিয়ারাই বালু তুলে বিক্রি করছেন এবং এ কাজে সরকারি অনুমতি রয়েছে। সমুদ্রে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজ তীরে ভেড়াতে সমস্যা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। রবিউলের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতি বর্গফুট বালু তুলতে খরচ হয় প্রায় ৩ টাকা ৫০ পয়সা, আর বিক্রি হয় ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮ টাকা দরে। তবে এ হিসাবের ভিত্তি, প্রতিদিন কী পরিমাণ বালু উত্তোলন হচ্ছে কিংবা মোট লেনদেন কত—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।