সিলেট জেলা প্রশাসনের ‘এলআর ফান্ড’-এর আয়-ব্যয়ের হিসাব, কারা তহবিলে টাকা দেন এবং কোন খাতে তা খরচ হয়—এসব জানতে প্রায় চার মাস আগে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হয়েছিল। বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশের পরও জেলা প্রশাসন চাওয়া ছয় ধরনের তথ্যের একটিও দেয়নি।
আবেদনকারী জানান, আবেদনের জবাবে জেলা প্রশাসন প্রথমে বলে, বিষয়টি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পড়ে না। পরে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা হলে তিনি জানান, এসব তথ্য দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসককে বিধি অনুযায়ী আবেদনটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু ওই নির্দেশের ৩৮ দিন পর জেলা প্রশাসন জানায়, ‘এলআর ফান্ড’ নামে কোনো তহবিল বা হিসাব তাদের কার্যালয়ে নেই; ফলে তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
এলআর ফান্ড হলো স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুদান বা চাঁদা হিসেবে সংগৃহীত অর্থের একটি বিশেষ তহবিল। ভিআইপিদের আপ্যায়ন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং মাঠ প্রশাসনের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে এ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা হয়। দেশের প্রতিটি জেলাতেই এমন তহবিল রয়েছে। গত জুনে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে ৫ লাখ টাকা দান করার ঘটনায় এই তহবিলের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এর পর ২৫ জুন আবেদনটি করা হয়, যাতে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২২ জুন পর্যন্ত সময়ের হিসাব চাওয়া হয়।
দুই দফায় দুই ধরনের জবাব দেওয়াকে ‘তথ্য গোপনে লুকোচুরি’ বলে মন্তব্য করেছেন সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, ‘এখানে শুভংকরের ফাঁকি আছে।’ তথ্য না দেওয়ায় এলআর ফান্ডের অনিয়ম নিয়ে প্রচলিত অভিযোগের পক্ষেও সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি স্বচ্ছতার স্বার্থে আয়-ব্যয়ের সব হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী সৈয়দা শিরিন আক্তার বলেন, তথ্য অধিকার আইনে জেলা প্রশাসন এ তথ্য জানাতে বাধ্য; তথ্য দিতে টালবাহানা অনিয়মের বিষয়টিই পাকাপোক্ত করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের সাবেক দুই পদস্থ কর্মকর্তা জানান, সিলেটে এলআর ফান্ডে প্রতিবছর ২ থেকে ৩ কোটি টাকা জমা হয়; পাথর কোয়ারি চালু থাকলে এর পরিমাণ আরও বেশি হতো। তাঁদের ভাষ্য, তহবিলের হিসাব জেলা প্রশাসনের নেজারত শাখায় সংরক্ষিত থাকে এবং প্রতিবছর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার অভ্যন্তরীণভাবে তা নিরীক্ষা করেন।
সিলেটের বর্তমান জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আপনাকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর বাইরে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’ আইন অনুযায়ী, তথ্য না পেলে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন এবং তাতেও প্রতিকার না মিললে তথ্য কমিশনে অভিযোগ করার সুযোগ আছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের পদত্যাগের পর কমিশনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থবির ছিল; দুই বছরের বেশি সময় পর ১৭ অক্টোবর নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুজন কমিশনার নিয়োগ পেয়েছেন।