নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) শিগগিরই বিভিন্ন রুটে নারীদের জন্য বিশেষায়িত ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) পিংক বাস চালু করতে যাচ্ছে। এসব বাস চালানোর জন্য দক্ষ নারী চালক তৈরিতে সংস্থাটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দেবে।
বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (আইসিডব্লিউএস ও প্রশিক্ষণ) প্রকৌশলী ফাতেমা বেগম জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত নারী চালকদের এক থেকে চার মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, নারী চালক পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস ইতিমধ্যে চালু হয়েছে এবং সাড়াও ভালো; এ সেবার পরিধি বাড়াতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ইভি পিংক বাস আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই সেবা মুনাফার জন্য নয়, নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য। তাঁর দাবি, বর্তমানে রক্ষণশীল পরিবারের সদস্যরাও নারীদের প্রশিক্ষণে উৎসাহ দিচ্ছেন।
বিআরটিসির গাজীপুর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ মশিউজ্জামান জানান, হালকা মোটরযানের লাইসেন্সধারী নারী চালকদের ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দিতে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে সড়ক পারফরম্যান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের করপোরেশনের বিদ্যমান প্রশাসনিক ও আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজন সাপেক্ষে দৈনিক মজুরিভিত্তিক চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে স্থায়ী চালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
প্রশিক্ষণের জন্য ২১ থেকে ৩২ বছর বয়সী এবং কমপক্ষে পাঁচ ফুট উচ্চতার বাংলাদেশি নারী প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। অভিজ্ঞ চালকদের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত শিথিলযোগ্য।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে একটি দক্ষতা প্রকল্পের আওতায় বিআরটিসি এর আগে থেকেই নতুনদের বিনা মূল্যে হালকা মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। দুটি প্রকল্পে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনা।