নাটোরের লালপুর উপজেলার নবীনগর গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন স্বামীহারা বৃদ্ধা হাজেরা বেওয়া। মানুষের সহযোগিতায় পাওয়া এক শতাংশ জমির ওপর গড়া তাঁর ছোট ঘরটি বুধবার সন্ধ্যার ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
পরদিন বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে ভাঙা ঘরের চিহ্ন। ভাঙা ঘরের সামনে বসে নির্বাক হয়ে কাঁদছিলেন হাজেরা। প্রতিবেশীরা তাঁকে সান্ত্বনা দিতে এসেছেন।
প্রায় ১৪ বছর আগে স্বামী জামাত মণ্ডল মারা যাওয়ার পর পাঁচ মেয়েকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন হাজেরা। তাঁর কোনো ছেলে নেই, নিজের নামে নেই এক টুকরো জমিও। পাঁচ মেয়ের মধ্যে দুজন আবার স্বামী হারিয়ে বিধবা হয়েছেন। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কোনো রকমে দিন চলে তাঁর।
এত বছরেও সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর জোটেনি তাঁর ভাগ্যে। শেষ পর্যন্ত এক হৃদয়বান ব্যক্তির দেওয়া এক শতাংশ জমিতে ছোট একটি ঘর তুলে কোনোমতে বেঁচে ছিলেন তিনি। ঝড়ে সেই ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম বলেন, হাজেরা বেওয়া অত্যন্ত অসহায় একজন নারী। ১৪ বছর ধরে তাঁর স্বামী নেই, পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে নেই। গত ১৫-১৬ বছরে তিনি সরকারি কোনো অনুদান বা সহযোগিতা পেয়েছেন বললেই চলে। গত বছর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাঁকে একটি বিধবা ভাতার কার্ড করে দিলেও নানা জটিলতায় শেষ কিস্তির টাকা তাঁর মোবাইলে আসেনি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জু বলেন, অতীতে হাজেরা কী ধরনের সরকারি সহায়তা পেয়েছেন, তা তাঁর জানা নেই। তবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর হাজেরার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তিনি একটি বিধবা ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
ঘর হারানো এই বৃদ্ধার জন্য আপাতত কোনো স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়নি। স্থানীয়রা প্রশাসন ও বিত্তবানদের সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন।