রোমানিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলে ড্রোন হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। এতে অন্তত একজন নাবিক নিহত হয়েছেন, নিখোঁজ আছেন আরও তিনজন। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোমানিয়ার নৌ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমোরোসের পতাকাবাহী ‘খোরিভ’ জাহাজটি কনস্টান্সা বন্দর থেকে ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে, রোমানিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার ঠিক বাইরে বিপদসংকেত পাঠিয়েছিল।
জাহাজটিতে ইউক্রেন ও আজারবাইজানের মোট ১৩ জন নাবিক ছিলেন। নয়জনকে পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে এবং তিনজনকে খোঁজা হচ্ছে। উত্তাল সমুদ্র ও জোরালো বাতাসের মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ অনুসন্ধান চালাচ্ছে। শুক্রবার প্রকাশিত ভিডিওতে ডুবে যাওয়া জাহাজের কাঠামোর সামান্য অংশ পানির ওপরে দেখা গেছে।
রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান সাংবাদিকদের বলেন, এটি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ‘উত্তেজনা বাড়ানোর প্রক্রিয়ার’ অংশ; পরে তিনি জাহাজটি ড্রোনের আঘাতে ডুবেছে বলেও জানান। টিআরটি লিখেছে, গত দুই সপ্তাহে ন্যাটো সদস্য রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা হঠাৎ বেড়েছে; অন্তত সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ আঘাত পেয়েছে এবং প্রায় ৩০ নাবিক নিহত বা নিখোঁজ। আক্রান্ত জাহাজগুলো মূলত সুলিনা খালের কাছাকাছি ছিল বা সেদিকে যাচ্ছিল। এই খাল দানিউব নদীকে কৃষ্ণ সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং রুশ হামলার মুখে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য ও ভোজ্য তেল রপ্তানির প্রধান পথ হয়ে উঠেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন অনলাইনে লিখেছেন, ‘আরও একটি রুশ উত্তেজনা বৃদ্ধিতে’ তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের ‘বেপরোয়া হামলা নিরীহ মানুষের প্রাণকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রকাশ্যে অমান্য করছে’। আরব নিউজও এ বক্তব্য প্রকাশ করেছে।
টিআরটি জানায়, ন্যাটো মঙ্গলবার কৃষ্ণ সাগরে আরও টহল বিমান, রাডার ও ড্রোন পাঠানোর কথা জানিয়েছে, তবে কী কী সক্ষমতা যাবে তা স্পষ্ট করেনি। ইউক্রেন, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় ন্যাটোকে আরও ভূমিকা নিতে বলেছে। প্রতিবেদনগুলোতে হামলা নিয়ে রাশিয়ার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।