রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলা’র জন্য তৈরি প্রধান অস্থায়ী ফটক ও স্টলের অবশিষ্ট কাঠামো ভেঙে ফেলেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা মাঠে ঢোকেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর, বেলা ১টা ১০ মিনিটের দিকে ক্যাম্পাসে ফিরে যান। মাঠটিতে বাংলাদেশ সচিবালয় সরিয়ে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এবং মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়ার দাবিতে কয়েক দিন ধরে তাঁরা আন্দোলন করছেন।
ইত্তেফাক জানায়, সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা চত্বরে জড়ো হন। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় খামারের দুটি ট্রাক্টর নিয়ে মিছিল করে মাঠে যান এবং স্থাপনা ভাঙার পর ট্রাক্টর দিয়ে মাঠ চাষ করেন। অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ইনকিলাবের হিসাবে দুই শতাধিক, প্রথম আলোর হিসাবে দেড় শতাধিক। প্রথম আলো লিখেছে, কাছের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে সকাল থেকে পুলিশ থাকলেও ভাঙচুরের সময় বাধা দেওয়া হয়নি।
মাঠ নিয়ে বিরোধ কেন
গত ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে আবদুল গনি রোডের সচিবালয় পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়; ২০২৯ সালে নতুন জায়গায় কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য ধরা হয়েছে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি; আশির দশকে এরশাদ সরকারের আমলে মেলার জন্য সাময়িকভাবে নেওয়া হলেও আর ফেরত দেওয়া হয়নি। তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছেন, জায়গাটি গণপূর্তের নামে; শিক্ষার্থীরা কেন এমন দাবি করছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, মাঠে বাণিজ্য মেলা বা কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন করা যাবে না, সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে, সেখানে স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা বানানো যাবে না এবং মাঠটি কৃষি গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ফেরত দিতে হবে। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মাইশা আফরোজ প্রথম আলোকে বলেন, লিখিতভাবে মেলার কাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নতুন করে স্টল বসানো হচ্ছিল, তাই তাঁরা মাঠে যেতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেলা স্থগিত হওয়ার পর আয়োজকেরা এক দিনের মধ্যে স্থাপনা সরানোর আশ্বাস দিলেও তা করেননি।
এর আগে যা ঘটেছে
ইনকিলাবের তথ্যমতে, ২৭ অক্টোবর মাঠে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন এবং যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। পরদিন মেলার প্রবেশফটকসহ কয়েকটি অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর হয়। বাংলা ট্রিবিউন জানায়, ওই রাতেই মেলা কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতনামা দুই থেকে আড়াই শ জনকে আসামি করে মামলা করে, যাতে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে; শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। এর মধ্যে কয়েক দফা সড়কও অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা, সর্বশেষ ১ নভেম্বর চীন মৈত্রী সিগন্যাল এলাকায়।
কর্তৃপক্ষ যা বলছে
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম সোমবারের ভাঙচুরের কথা নিশ্চিত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেছে। শেকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক আরফান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, শিক্ষার্থীরা তাঁদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন, খবর পেয়েই তাঁরা গিয়ে তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছেন।