নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল ফতুল্লায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ফতুল্লা মডেল থানা তীব্র যানবাহন-সংকটে ভুগছে। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, অসংখ্য কলকারখানা, ব্যস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর নিয়ে গড়ে ওঠা এই জনপদে সচল গাড়ির স্বল্পতা ও পুরনো যানবাহনের বেহাল দশায় টহল, অভিযান ও আসামি গ্রেপ্তার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত থানা এলাকায় প্রায় ২৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, থানায় সরকারি গাড়ি রয়েছে মাত্র দুটি। এ ছাড়া বিকেএমই থেকে পাওয়া একটি ছোট পিকআপ রয়েছে। দুটি গাড়ির একটি ওসির জন্য, যা অধিকাংশ সময় ভিআইপি ডিউটিতে নিয়োজিত থাকে। অন্যটি প্রায় বিকল থাকে; ঠিক করে কয়েক দিন চলার পর আবার বিকল হয়ে যায়।
প্রাইভেট গাড়ি-সিএনজির ওপর ভরসা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পর্যাপ্ত সরকারি যানবাহন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে রিকুইজিশন করা প্রাইভেট কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয়দের মতে, কোনো ঘটনা ঘটার পর পুলিশ দ্রুত পৌঁছাতে না পারলে অপরাধীরা পালানোর সুযোগ পেতে পারে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, সমস্যা শুধু ফতুল্লা থানার নয়, সারা দেশের পুলিশেরই এটি একটি বড় সংকট। যানবাহনের চাহিদা ও বরাদ্দ জেলা পুলিশ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না; সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি জানান, নতুন যানবাহনের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করছেন।
এদিকে সারা দেশে পুলিশের যানবাহন-সংকট দূর করতে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি পৃথক প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অনুমোদনের জন্য আজ রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৪ হাজার ৮২৯টি সাধারণ পরিচালন যানবাহনের জন্য ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা এবং ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহনের জন্য ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।