বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক ও তাঁর স্ত্রীর সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব বিএফআইইউর

সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস সেবাদাতাকে চিঠি দিয়ে দুই কর্মদিবসের মধ্যে হিসাব খোলার ফরম ও লেনদেন বিবরণী পাঠাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাঁদের শেয়ার, সঞ্চয়পত্রসহ অন্য সব আর্থিক হিসাবের লেনদেনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। বুধবার সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে এসব তথ্য চাওয়া হয়।

বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে, মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর হিসাব খোলার ফরম, লেনদেন বিবরণীসহ যাবতীয় তথ্য চিঠি পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে হবে। মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় এ তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে অপেশাদার আচরণের বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ঘটনা তদন্তাধীন। প্রথম ঘটনা গত ২৬ ফেব্রুয়ারির, যেদিন নতুন গভর্নর নিয়োগ হয়। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মদ ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে মোশাররফের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তা জোর করে কিছু আদেশে সই করতে বাধ্য করেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে তদন্ত চলছে।

দ্বিতীয় অভিযোগটি তদবিরসংক্রান্ত। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে বিএফআইইউ যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়, সে জন্য মোশাররফ হোসেন একজন নির্বাহী পরিচালকের কাছে তদবির নিয়ে যান বলে সূত্র জানায়। এ ক্ষেত্রে তিনি বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার রেফারেন্স দেন বলেও বলা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএফআইইউ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়।

উল্লেখ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; এসব অভিযোগের বিষয়ে মোশাররফ হোসেন বা তাঁর স্ত্রীর কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।