শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

চরভদ্রাসনে পদ্মায় অবৈধ বাঁধ: সংসদ সদস্যের নির্দেশের ১৮ দিনেও অপসারণ হয়নি, বিপাকে জেলেরা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে নদীর প্রবাহ আটকে সূক্ষ্ম জাল পেতে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে; প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। বাঁধের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এতে নদীনির্ভর শত শত জেলে পরিবার সংকটে পড়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নে চর শালেপুর ও চর মির্জাপুরের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলে নদীর ওপর আড়াআড়িভাবে বাঁধটি তৈরি করা হয়েছে। বাঁধের সঙ্গে সূক্ষ্ম ফাঁদের জাল ও বাঁশের খাঁচা বসিয়ে পোনা ও মা মাছ নির্বিচারে ধরা হচ্ছে। অভিযোগে ১০ জনের বেশি ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলেদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নদীর জলমহাল দখল করে এভাবে মাছ আহরণ করে আসছে। বাঁধ অপসারণের আবেদন করায় তাঁদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। পদ্মাই তাঁদের আয়ের প্রধান উৎস; মাছ ধরতে না পারায় অনেক পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বাঁধটি দ্রুত উচ্ছেদ করে নদীর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশের ১৮ দিন পরও অপসারণের দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ আবেদনকারীদের। তাঁরা বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি এবং কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন কি না, সে তথ্যও তাঁরা পাননি।

ফরিদপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান জানান, চরভদ্রাসন উপজেলায় ক্যাডার কর্মকর্তা বদলি হয়ে যাওয়ায় পদটি শূন্য রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ দেরির নির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেননি; তবে হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল পদ্মার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা এবং জেলেদের জীবিকা বাঁচাতে দ্রুত বাঁধ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।